মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৮ জুন : পাথারকান্দির বহুল আলোচিত মব লিঞ্চিং কাণ্ডে আহত দুই নাবালকের খোঁজ নিতে সোমবার মাঠে নামে করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস। জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ ও জেলা কংগ্রেস মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শাহাদাত আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পাশাপাশি পাথারকান্দি থানায় গিয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয় এবং পরে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই নাবালকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।
প্রতিনিধিদল প্রথমে পাথারকান্দির মামবাড়ি এলাকায় গিয়ে আহত দুই নাবালক ইসলাম উদ্দিন ও আমির উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গরু চুরির সন্দেহে দুই কিশোরকে নির্মমভাবে গণপিটুনির শিকার হতে হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা শুনে কংগ্রেস নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ বলেন, “একটি সভ্য সমাজে এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আক্রান্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন।
পরে প্রতিনিধিদল পাথারকান্দি থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তদন্তের বর্তমান অবস্থা, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপ এবং পলাতক অভিযুক্তদের সন্ধানে পুলিশের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চায়। কংগ্রেস নেতারা তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিনিধিদলকে জানান, পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এরপর কংগ্রেস প্রতিনিধিদল শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন ইসলাম উদ্দিন ও আমির উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে। চিকিৎসকদের কাছ থেকে তাদের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি আহত দুই কিশোরের সঙ্গে কথা বলেন নেতৃবৃন্দ। তারা আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং চিকিৎসা ও আইনি লড়াইয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জেলা কংগ্রেস মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শাহাদাত আহমদ চৌধুরী বলেন, “গণপিটুনির মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”
এদিনের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন জ্যোতিষ পুরকায়স্থ, এ.কে. দাপাদার, শুভঙ্কর দাস, তন্ময় মজুমদার, সন্দ্বীপ নন্দী, হাসিনা রহমান, শুভম দাস, ফজল হোসেন, নমিক উদ্দিনসহ কংগ্রেসের একাধিক নেতা-কর্মী।
উল্লেখ্য, গরু চুরির সন্দেহে দুই নাবালকের ওপর সংঘটিত এই গণপিটুনির ঘটনায় ইতোমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তদন্তের অগ্রগতি ও বিচার প্রক্রিয়ার দিকেই এখন সবার নজর।



