বরাক তরঙ্গ, ৬ জুন : অপরাধের ধরন বদলে এবার স্ত্রীকে হত্যার পর নিজেই থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করলেন স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে পর্বতঝোড়ার রঙামাটি হিলস এলাকায়, যা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, হানিফ আলি বগরীবাড়ি থানায় একটি এজাহার দাখিল করে দাবি করেছিলেন যে তাঁর স্ত্রী মফিদা খাতুন নিখোঁজ হয়ে গেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং মহিলার সন্ধানে তৎপর হয়। তদন্ত চলাকালীন হানিফ আলির বক্তব্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করে পুলিশের সন্দেহের উদ্রেক হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ধীরে ধীরে সামনে আসে ঘটনার প্রকৃত সত্য
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই হানিফ আলী স্ত্রীকে জ্বালানি কাঠ কাটার অজুহাতে বনাঞ্চলে নিয়ে যান। সেখানে তিনি মফিদা খাতুনকে হত্যা করেন এবং অপরাধের প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে ঘন জঙ্গলের মধ্যে মৃতদেহ লুকিয়ে রাখেন।
এরপর নিজেকে সন্দেহমুক্ত রাখতে স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়ে বগরীবাড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। তবে পুলিশের ধারাবাহিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
ইতিমধ্যে পুলিশ জঙ্গলের ভেতর থেকে মফিদা খাতুনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত স্বামী হানিফ আলীকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



