বিশ্বকাপের আগে ভিসা জট কাটল, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেল ইরান ফুটবল দল

Spread the news

৬ জুন : দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেয়েছেন ইরানের ফুটবলাররা। হোয়াইট হাউসের দাবি, লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিতব্য নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগেই দলের খেলোয়াড়দের ভিসা প্রদান করা হয়েছে। এর আগে ইরানের মেক্সিকোস্থ রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদেহ অভিযোগ করেছিলেন যে ম্যাচ শুরুর মাত্র ১০ দিন বাকি থাকলেও খেলোয়াড়রা ভিসা পাননি।
তবে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় দলের কয়েকজন টেকনিক্যাল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার ভিসা এখনও অনুমোদন করেনি যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্রের উল্লেখ করা হয়নি।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের চলমান উত্তেজনার প্রভাব এবার বিশ্বকাপ মঞ্চেও পড়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর দুই দেশের রাজনৈতিক বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপকে ঘিরেও কূটনৈতিক টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১৯৩০ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা এই বৈশ্বিক ফুটবল আসরে এবারই প্রথম যুদ্ধাবস্থার আবহে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি দেশের দলকে স্বাগত জানাতে হচ্ছে আয়োজক রাষ্ট্রকে।

শুরু থেকেই তেহরান বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচ ও প্রস্তুতি কার্যক্রম সহ-আয়োজক মেক্সিকোতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিল। ভিসা জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনার পরিবর্তে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় খেলা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেছে ইরান। জানা গেছে, রোববার তিজুয়ানায় পৌঁছে সেখানেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ক্যাম্প করবে দলটি।

বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে থাকা ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। এরপর বেলজিয়াম ও মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।

এদিকে, রাষ্ট্রদূত পাসান্দিদেহ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি যে তারা ইরান দলকে নিজেদের ভূখণ্ডে অবস্থান করতে দিতে চায় না। অন্যদিকে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী Marco Rubio জানিয়েছেন, ইরানের বিশ্বকাপ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)-এর কোনও ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *