বরাক তরঙ্গ, ৪ জুন : জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন ‘হিমন্ত ২.০’ মন্ত্রিসভায় পুনরায় স্থান পেলেন লক্ষীপুরের বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী কৌশিক রায়। তাঁর পুনর্নিয়োগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বরাক উপত্যকা জুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল একজন নেতার প্রতি আস্থারই প্রতিফলন নয়, বরং বরাক উপত্যকার রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রতিনিধিত্বেরও স্বীকৃতি।
নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে নানা জল্পনা চলছিল। বিজেপির বিপুল বিজয়ের পর সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় কৌশিক রায়ের নাম প্রথম থেকেই আলোচনায় ছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার তাঁর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির ঘোষণার মাধ্যমে সেই জল্পনার অবসান ঘটে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লক্ষীপুর কেন্দ্র থেকে রেকর্ড ব্যবধানে জয়লাভ করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন কৌশিক রায়। প্রায় এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে কংগ্রেস প্রার্থীকে পরাজিত করে তিনি রাজ্যের অন্যতম বড় জয় অর্জন করেন, যা দলীয় নেতৃত্বের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আগের মেয়াদে খাদ্য, জনবণ্টন ও উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তর, খনি ও খনিজ সম্পদ এবং বরাক উপত্যকা উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব সফলভাবে সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে কৌশিক রায়ের। প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসংযোগ এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা পুনরায় মন্ত্রিত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
মন্ত্রিসভায় তাঁর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠন। তাঁদের আশা, তাঁর অভিজ্ঞ নেতৃত্বে অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনমুখী প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন আরও গতিশীল হবে।
এদিকে, কৌশিক রায়ের পুনর্নিয়োগের খবরে বিজেপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আবহ দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আনন্দ উদযাপনের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অসংখ্য বার্তা প্রকাশ করেছেন সমর্থকরা।
পুনরায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর কৌশিক রায় জনগণ ও দলীয় নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই দায়িত্ব তাঁর কাছে যেমন গৌরবের, তেমনি একটি বড় দায়িত্বও। জনগণের আস্থা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্বাসকে মর্যাদা দিয়ে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি। বরাক উপত্যকার মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও অঞ্চলের সমস্যা সম্পর্কে গভীর জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে কৌশিক রায় আগামী দিনে সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন এবং বরাকের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে অগ্রণী ভূমিকা নেবেন।



