সেমিস্টার পরীক্ষার ফল প্রকাশে ব্যাপক ত্রুটি ও ওয়েবসাইট সংক্রান্ত অনিয়ম,  জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি এআইডিএসও’র

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৪ জুন : আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন কলেজে পাঠরত ছাত্রছাত্রীদের সেমিস্টার পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পরিলক্ষিত গুরুতর অনিয়মগুলি দ্রুত নিরসনের দাবিতে বৃহস্পতিবার আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নিকট স্মারকপত্র প্রদান করে ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও’র কাছাড়, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি জেলা কমিটির একটি প্রতিনিধিদল। সংগঠনের প্রতিনিধিরা আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে স্মারকপত্র প্রদান করে উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অনুপ কুমারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ অনিয়মগুলি নিয়ে আলোচনা করে। তারা বলে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রীদের মনে পরীক্ষার ফল নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রীদের অপ্রত্যাশিতভাবে অত্যন্ত কম নম্বর পাওয়ার ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। একই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হুবহু একই রকম নম্বর—শূন্য, দুই, চার—ইত্যাদি পেয়েছে। অথচ, এই ছাত্র ছাত্রীরাই অভ্যন্তরীণ (Internal) ও সেশনাল মূল্যায়নগুলিতে অত্যন্ত ভালো নম্বর পেয়েছিল। এছাড়াও পরীক্ষায় বসা সত্ত্বেও বহু ছাত্র ছাত্রীদের মার্কসিটে কিছু নির্দিষ্ট পেপারে ‘অনুপস্থিত’ (Absent) হিসেবে চিহ্নিত করা রয়েছে।

প্রতিনিধিরা বলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফল প্রকাশের অফিসিয়াল পোর্টালটি চালু হওয়ার পরপরই অচল (Crashed) হয়ে যায়। ফলে অধিকাংশ ছাত্র ছাত্রী তাদের ফল বা মার্কসিট দেখতে পারে নি।
এই পদ্ধতিগত ত্রুটিগুলি ছাত্রসমাজের শিক্ষাজীবন, মানসিক শান্তি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করে তুলেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটির পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করে ছাত্র ছাত্রীদের সঠিক নম্বর প্রদান, উপস্থিতির নথিপত্র সংশোধন এবং ওয়েবসাইটের জরুরি আধুনিকীকরণ এবং পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করানোর জোরালো দাবি জানানো হয়।

প্রতিনিধিরা এও বলেন নূন্যতম পরিকাঠামো না থাকায় ছাত্র ছাত্রীদের এসব দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। অথচ এই দুর্বল পরিকাঠামোর পরিবর্তন না করে জাতীয় শিক্ষানীতির অন্যতম অযৌক্তিক পদক্ষেপ হিসেবে চার বছরের ডিগ্রি কোর্স ছাত্রছাত্রীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা ভবিষ্যতে ছাত্রীদের জীবন বিপন্ন করবে।
উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংগঠনের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করেন এবং ছাত্র ছাত্রীদের পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বিনা মাশুলে করা হবে বলে জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এধরনের সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব আরোপ করা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন এআইডিএসও’র অসম রাজ্য কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক পল্লব ভট্টাচার্য, এআইডিএসও’র কাছাড় জেলা সম্পাদক স্বপন চৌধুরী, করিমগঞ্জ জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য যথাক্রমে জয়দীপ দাস, বাবলি দাস এবং কাছাড় জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য তুতন দাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *