বাঙালি জনগোষ্ঠীর সার্বিক বিকাশে সরকারকে আর্জি জানাল বরাকবঙ্গ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩০ মে : অসমে বসবাসকারী বাঙালি জনগোষ্ঠী এ রাজ্যের সমৃদ্ধির জন্য সরকারের গৃহীত ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতা করার পরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হচ্ছে বলে ক্ষোভ ব্যক্ত করে সংবিধান প্রদত্ত অধিকারগুলো সুরক্ষায় এবং সমবিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছে বরাকবঙ্গ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পরিতোষচন্দ্র দত্ত বিগত হাইলাকান্দি অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তাবগুলোর কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষকে পত্র লিখে এই আর্জি রেখেছেন।

চিঠিতে সাধারণ সম্পাদক দত্ত লিখেছেন, রাজ্যের সার্বিক বিকাশে অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাঙালিরা সমান অংশীদার হয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। ইতিহাস তার সাক্ষী। কিন্তু এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বাঙালিকে প্রান্তিকায়িত করার জন্যে এ রাজ্যে প্রণালীবদ্ধ চেষ্টা চলছে। সম্মেলনের প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এই জাতি গোষ্ঠীর ভাষিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অধিকারের পরিসর ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে  এ রাজ্যে। নাগরিকত্বের প্রশ্ন মীমাংসা করার জন্য দেশের শীর্ষ আদালতের তত্ত্বাবধানে এনআরসি নবায়ন হলেও আজও তা সরকারি মান্যতা না পাওয়ায় যথেষ্ট উদ্বেগের সঞ্চার হয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক দত্ত অধিবেশনের প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী ও বিধানসভার অধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, বরাকের ভাষিক পরিচিতি বদলে দেবার চেষ্টা হচ্ছে। উপত্যকার আঞ্চলিক ভাষা বাংলা হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাকে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে না। উপত্যকার অর্থনীতি এখন ধুঁকছে এই অভিমত তুলে ধরে সাধারণ সম্পাদক লিখেছেন, এ অঞ্চলের শিল্পায়নে নানা প্রতিশ্রু তি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সরকারি ক্ষেত্রে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝাপ বন্ধ হয়ে যাবার পর বেসরকারি পর্যায়ে শিল্প গুলোর আর্থিকস্থিতিও ভালো নয়। উপত্যকার বেকার সমস্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ।সরকারি ক্ষেত্রে নিযুক্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ বাড়ছে। কৃষি প্রধান এই উপত্যকার তিন জেলায় তিনটি কৃষি মহাবিদ্যালয় ও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে রাজ্য সরকারের কাছে বিগত হাইলাকান্দি অধিবেশনে যে আর্জি রাখা হয়েছে সে ব্যাপারেও তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। হাইলাকান্দি অধিবেশনে রাজ্যে বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলো অবলুপ্তির প্রবণতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল এ বিষয়টিও মুখ্যমন্ত্রী নজরে আনা হয়েছে।

পাশাপাশি বরাক উপত্যকার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাকে ঐচ্ছিক মাধ্যম হিসেবে চালু করার জন্য অধিবেশন থেকে যে দাবি উত্থাপিত হয়েছিল সে সম্পর্কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সাধারণ সম্পাদক দত্ত আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পৃথক চিঠি লেখে দাবি রেখেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *