বরাক তরঙ্গ, ২৯ মে : সংস্কার ভারতী, দক্ষিণ আসাম প্রান্ত আয়োজিত ষষ্ঠ কলাসাধক সঙ্গম উপলক্ষে হাইলাকান্দি শাখা চর্চা কেন্দ্রে আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বৃহস্পতিবার। এবার কাটলিছড়া ও হাইলাকান্দি শাখা থেকে বিজয়ী প্রতিযোগিরা জুন মাসে জেলা স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করতে হবে এবং পরবর্তীতে কাছাড়, শ্রীভূমি, হাইলাকান্দি ও ডিমা হাসাও জেলা নিয়ে গঠিত সংঘটনের দক্ষিণ আসাম প্রান্তের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সম্পন্ন হওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান দক্ষিণ আসাম প্রান্তের সম্পাদক বিশ্বতোষ দেব। বৃহস্পতিবার হাইলাকান্দি শাখার প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে একথা জানিয়ে বিশ্বতোষবাবু আরও জানান, পরবর্তী তে নৃত্য কর্মশালা, লোক উৎসব এবং প্রয়াগরাজে সংস্কার ভারতীর মাঘ মেলায় বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ী প্রতিযোগিরা অংশ গ্রহণ করার সুযোগ পাবে বলেও তিনি জানান।

এদিন হাইলাকান্দি শাখার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রান্তীয় উপ সভাপতি সলিল পুরকায়স্থ, হাইলাকান্দি শাখার সভাপতি পিনাক পানি ভট্টাচার্য, উপ সভাপতি সুনন্দা ভট্টাচার্য, সম্পাদক ড. অভিজিৎ মিত্র, সাহিত্য প্রমুখ ড. তীর্থঙ্কর চক্রবর্তী,যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বরূপ শর্মা, প্রান্তীয় বিমর্ষ সহ সম্পাদক শংকর চৌধুরী সহ অন্যান্যরা।
প্রসঙ্গত হাইলাকান্দি শাখার প্রতিযোগিতায় চিত্রাঙ্কন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, সমবেত দেশাত্মবোধক সঙ্গীত, তবলা লহরা, একক নৃত্য ও সমবেত লোকনৃত্য সহ বিভিন্ন বিভাগে বহু প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ মে মিশন রোডের গুরুস্থানম প্লে স্কুলে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।এতে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন বিমলেন্দু সিনহা। এছাড়া ২৮ মে ৫১৯ নং দয়াময়ী পাঠশালায় অনুষ্ঠিত শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, সমবেত সঙ্গীত, তবলা লহরা, একক নৃত্য ও সমবেত লোকনৃত্য প্রতিযোগিতাগুলিতে যথাক্রমে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন স্বপ্না চৌধুরী, সজল বিশ্বাস ও ব্রজেন্দ্র সিনহা।
বিভিন্ন বিভাগে প্রতিযোগীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে বিশেষ মাত্রা দেয়। একক নৃত্য প্রতিযোগিতার ‘ক’ বিভাগে সর্বাধিক ৪২ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। সমবেত লোকনৃত্য ও সমবেত সঙ্গীত প্রতিযোগিতাতেও বিভিন্ন দলের আকর্ষণীয় পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

এছাড়াও সঙ্গীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, প্রশিক্ষক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সক্রিয় সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শংকর চৌধুরী ও ড. তীর্থঙ্কর চক্রবর্তী।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভারতীয় সংস্কৃতি, শিল্প ও সৃজনশীল চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে করা হচ্ছে।
এদিকে, এদিনই কাটলওছড়া চর্চা কেন্দ্রে অনুরূপ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।



