বরাক তরঙ্গ, ২৫ মে : কাটাখাল-দার্বি-বড়জালেঙ্গা সড়কের বেহাল অবস্থার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব হলেন এলাকার বাসিন্দারা। দার্বি চা-বাগানের গঞ্জু হাজামের বাড়ি থেকে অনুজ পানিকার বাড়ি পর্যন্ত সড়কের অংশের উচ্চতা কমপক্ষে পাঁচ ফুট বাড়ানো এবং ক্ষেতের জল নিষ্কাশনের দাবিতে সোমবার পিডাব্লিউআরডি বিভাগের সোনাই-ধলাই ডিভিশনের কার্যনির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একটি স্মারকপত্র প্রদান করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে রাস্তা নির্মাণ করা হলেও জনগণের আপত্তি সত্ত্বেও সমস্যাগ্রস্ত অংশটির উচ্চতা বাড়ানো হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার ওই অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে প্রায় তিন ফুট পর্যন্ত জল জমে থাকায় মানুষ ও যানবাহনের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। স্কুল পড়ুয়াদের যাতায়াত ব্যাহত হয় এবং অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও সম্ভব হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসার অভাবে রোগীদের বাড়িতেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলেও দাবি করেন বাসিন্দারা।
এছাড়া এলাকায় সঠিক জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থার অভাবেও চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। একটি ছোট নালা থাকলেও জালিবেতের ঝাড় ও আবর্জনায় তা কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে কয়েক হাজার বিঘা কৃষিজমি বর্ষায় জলের তলায় চলে যায় এবং ধান চাষ অসম্ভব হয়ে পড়ে। কৃষকদের পাশাপাশি গবাদি পশুর খাদ্যের সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, অনুজ পানিকার বাড়ি থেকে আদল আলীর বাড়ি পর্যন্ত একটি সরু ও কর্দমাক্ত রাস্তা রয়েছে। বাধ্য হয়ে বহু মানুষ ওই রাস্তা দিয়ে প্রায় দুই মাইল ঘুরে অটোস্ট্যান্ডে পৌঁছান। রাস্তা সংস্কার ও চওড়া করার দাবিও জানানো হয়েছে স্মারকপত্রে।
তাদের দাবি, অবিলম্বে জলমগ্ন সড়কাংশের উচ্চতা বৃদ্ধি করে যান চলাচলের উপযোগী করতে হবে এবং জল নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প কাঁচা রাস্তাটিকেও দ্রুত সংস্কার করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে এলাকার জনগণ ও পড়ুয়ারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
স্মারকপত্র প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন দার্বি চা-বাগান, ৫ নম্বর বস্তি ও এলেনপুর এলাকার বাসিন্দারা। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পালই-দার্বি-বড়জালেঙ্গা রাস্তা ও ভূমি উন্নয়ন কমিটি এবং অল ইন্ডিয়া কিষান ও ক্ষেতমজুর সংগঠনের তারানাথপুর কমিটির সদস্য এবং মোহন ধোবি, রামপ্রসাদ পাশি, রমন কৈরি, চন্দা কল, বিশ্বনাথ বাউরি, শ্যামদেও কুর্মী ও গৌরচন্দ্র দাস প্রমুখ।



