বরাক তরঙ্গ, ২৪ মে : অসমের নলবাড়ি জেলার বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী এবং স্বনির্ভরতা আন্দোলনের এক পরিচিত মুখ বিতুমণি দেবী-কে “যুব দর্পণ এক্সেলেন্ট অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬”-এর জন্য মনোনীত করা হয়েছে। আগামী ৩১ মে গুয়াহাটির লোহিয়া লায়ন্স গৌহাটি অডিটোরিয়াম, চত্রীবাড়ি-তে অনুষ্ঠিতব্য এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করা হবে।
নলবাড়ির জাপারকুচি গ্রামের বাসিন্দা বিতুমণি দেবী দীর্ঘদিন ধরে নারী স্বনির্ভরতা, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি “এম/এস রেণুকা মাশরুম অ্যান্ড ফ্রুট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি”-এর কর্ণধার হিসেবে বহু মহিলাকে কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছেন। মাশরুম চাষ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে তাঁর উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
তিনি শুধুমাত্র একজন সফল উদ্যোক্তাই নন, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও সমানভাবে সক্রিয়। অতীতে তিনি নলবাড়ি জিলা পরিষদের সভাপতি, শ্রীমন্ত শঙ্করদেব যুব মঞ্চ, অসম-এর প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি, এবং বিভিন্ন সামাজিক ও কৃষিভিত্তিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সমাজ উন্নয়নমূলক নানা প্রকল্পে তাঁর অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের কাছে তাঁকে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিতুমণি দেবীর অর্জনের তালিকাও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ২০২০ সালে আসাম মাশরুম গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ও কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত প্রথম রাজ্যস্তরীয় মাশরুম দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত রেসিপি প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। এছাড়াও ২০২১ সালে নলবাড়ি জেলা কৃষি বিভাগ তাঁকে “প্রগ্রেসিভ ফার্মার” হিসেবে সম্মানিত করে। একই বছরে উদ্যোক্তা হিসেবেও তিনি বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেন।
দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করে অসমের কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে তুলে ধরেছেন তিনি। দিল্লির প্রগতি ময়দানে অনুষ্ঠিত “ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফেয়ার ২০২১” এবং “ওয়ার্ল্ড ফুড ইন্ডিয়া ২০২৩”-এ তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এছাড়াও তিনি গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি প্রশিক্ষণ, মাশরুম চাষ, মাছচাষ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও নারীর দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। “শি রিপ্রেজেন্টস ২০২৩” গণতন্ত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সফলভাবে অংশ নিয়ে তিনি নারীর নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সমাজের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বিতুমণি দেবী জানান, ভবিষ্যতেও তিনি তাঁর উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়াতে এবং নারীদের আত্মনির্ভর করে তুলতে কাজ করে যেতে চান।
তাঁর এই সম্মাননা প্রাপ্তির খবরে নলবাড়ি সহ সমগ্র অসমে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কৃষিভিত্তিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।



