বরাক তরঙ্গ, ২৪ মে : বর্তমান সময়ে যেখানে পড়াশোনার চাপের কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের পছন্দের শিল্পচর্চা বা প্রতিভাকে দূরে সরিয়ে রাখতে বাধ্য হয়, সেখানে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করলেন সুমেধা চৌধুরী। সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির কমার্স বিভাগে ৯১.২ শতাংশ নম্বর অর্জন করার পাশাপাশি নৃত্যচর্চাকেও সমানভাবে ধরে রেখে তিনি প্রমাণ করলেন যে, একাগ্রতা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে পড়াশোনা এবং প্যাশন— দুটিকেই সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর এই উজ্জ্বল সাফল্যের মধ্যে রয়েছে Business Studies-এ ৯৫ এবং Accountancy-তে ৯৪ নম্বর অর্জন। অন্যান্য বিষয়েও তিনি অত্যন্ত ভালো ফল করেছেন। তবে শুধু একজন মেধাবী ছাত্রী হিসেবেই নয়, একজন প্রতিভাবান নৃত্যশিল্পী হিসেবেও ইতিমধ্যেই নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন সুমেধা।
মাত্র তিন বছর বয়স থেকে তাঁর নৃত্যজীবনের সূচনা। ছোট থেকেই নাচের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কথক নৃত্যে তিনি সপ্তম শ্রেণিতেই “বিষারদ” সম্পন্ন করেন, যা খুবই কম বয়সে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে নৃত্যচর্চা, মঞ্চ পরিবেশনা এবং প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
বোর্ড পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও সুমেধা কখনও নাচকে ছেড়ে দেননি। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, নাচ মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে ইতিবাচক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেকেই তাঁকে বলেছিলেন যে নাচ করলে পড়াশোনায় প্রভাব পড়তে পারে, কিন্তু নিজের নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাস দিয়ে তিনি সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছেন।
বর্তমানে সুমেধা তাঁর মা’র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পারিবারিক নৃত্য প্রতিষ্ঠান “সঙ্গীত অঞ্জলি”-র সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি পুরো বছরজুড়ে নাচ শেখানো, ক্লাস পরিচালনা এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন। শুধু দেশেই নয়, বর্তমানে তিনি অনলাইন মাধ্যমে দেশের বাইরের শিক্ষার্থীদেরও নৃত্য শিক্ষা দিচ্ছেন। তাঁর এই উদ্যোগ ভারতীয় সংস্কৃতি ও নৃত্যকলাকে আন্তর্জাতিক স্তরেও পৌঁছে দিতে সহায়তা করছে।
নৃত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর এই অসাধারণ সাফল্য, কঠোর পরিশ্রম এবং বহুমুখী প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সুমেধা চৌধুরীকে “JUBO DARPAN YOUTH ACHIEVER AWARDS 2026”-এর জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এই সম্মান তাঁর দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও নিষ্ঠারই প্রতিফলন।
সুমেধার এই যাত্রা আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন যে, নিজের স্বপ্নকে ভালোবেসে এগিয়ে গেলে এবং সঠিকভাবে সময়ের মূল্য দিতে পারলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।



