মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২২ মে : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে অসম সরকারের ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে আয়োজিত রবীন্দ্র সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে শ্রীভূমিতে এক গুরুত্বপূর্ণ সভার আয়োজন করা হয়। শ্রীভূমি সরস্বতী বিদ্যানিকেতনে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার বিভিন্ন সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের হাতে প্রতিযোগিতার আবেদনপত্র তুলে দেওয়া হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় “শ্রীভূমি রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন কমিটি”।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের রবীন্দ্র জয়ন্তী কমিটির রাজ্য সদস্য তথা বিশিষ্ট নৃত্যগুরু সুলেখা দত্ত চৌধুরী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু বাঙালির নন, তিনি বিশ্বকবি এবং বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। গত চার বছর ধরে অসম সরকার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ঘরে ঘরে রবীন্দ্রচর্চা পৌঁছে দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, এই প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র প্রতিযোগিতা নয়, এটি শিল্পীদের প্রতিভা বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। আগামী ১ জুন শ্রীভূমিতে জেলা পর্যায়ের বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

রাজ্য সদস্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠক সৌমিত্র পাল বলেন, অসমে সরকারি উদ্যোগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কেন্দ্র করে সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা এই প্রথমবারের মতো বৃহৎ আকারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক শিলাদিত্য দেবের উদ্যোগে আজ বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মধ্যেও রবীন্দ্রচর্চা বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে। তিনি এই উদ্যোগের জন্য শিলাদিত্য দেবকে ধন্যবাদ জানান।
সভায় শ্রীভূমি রবীন্দ্র জয়ন্তী কমিটির কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী জেলার বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীদের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উপস্থিত সঙ্গীত ও নৃত্যগুরুদের প্রতিযোগিতাকে সফল করতে সহযোগিতার আবেদন জানান। এদিনের সভায় নন্দ কিশোর বণিক, অসিত দত্ত, অমর কৃষ্ণ সাহা, রঞ্জন ভট্টাচার্য, অঞ্জন গোস্বামী, অমৃত লাল বণিক, নীলজকান্তি দাস, মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন।
ঘোষিত কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন সাংসদ কৃপানাথ মালা, জেলার চার বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল, বিজয় মালাকার, আমিনুর রশিদ চৌধুরী ও জাকারিয়া আহমদ সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন সুব্রত ভট্টাচার্য এবং কার্যকরী সভাপতি হন সুব্রত চৌধুরী। সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান নীলজ কান্তি দাস।



