ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরে ত্বিষার মৃত্যুর কারণ জানাল ভোপাল পুলিশ

Spread the news

২০ মে : প্রাক্তন ‘মিস পুনে’ ত্বিষা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একাধিক নতুন তথ্য। তবে এই আবহের মধ্যেই ভোপালের পুলিশ দাবি করেছে, এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী ত্বিষার মৃত্যু ‘খুন নয়, আত্মহত্যা’ বলেই মনে করা হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভোপালের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমারের মন্তব্য এখন এই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তবে ভোপালের পুলিশ কমিশনার ত্বিষার শাশুড়ির দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন। সংবাদসংস্থাকে তিনি জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তে ত্বিষার শরীরে মাদকের কোনও অস্তিত্ব মেলেনি।

গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে ত্বিষা শর্মার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। ত্বিষার পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তাঁকে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করা হত। ওই ঘটনায় তাঁর স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধেই উঠেছে মূল অভিযোগ। গিরিবালা সিং একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক।

ভোপালের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমার NDTV-কে বলেন, ‘পোস্টমর্টেমের প্রাথমিক রিপোর্ট এবং প্রাথমিক তদন্তে এখনও পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে এটি আত্মহত্যার ঘটনাই বলে মনে হচ্ছে, খুন নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তদন্ত অনুযায়ী এটি অ্যান্টি-মর্টেম হ্যাঙ্গিং-এর ঘটনা,’ অর্থাৎ মৃত্যুর আগেই গলায় ফাঁস লাগানো হয়েছিল। পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, শরীরে এমন কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি যা সরাসরি খুনের ইঙ্গিত দেয়।

এই মামলায় সবচেয়ে বিতর্কিত দাবি করেছিলেন ত্বিষার শাশুড়ি গিরিবালা সিং। তিনি অভিযোগ করেন, ত্বিষা নাকি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন। এমনকী তিনি এও দাবি করেন, ত্বিষা গর্ভাবস্থাতেও মাদক নিয়েছিলেন। তবে এই সব অভিযোগ কার্যত খারিজ করে দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমার। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘পোস্টমর্টেম রিপোর্টে মাদকের কোনও উল্লেখ নেই। তদন্তেও তেমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। AIIMS ভোপালের পোস্টমর্টেম রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যে বেল্ট দিয়ে ত্বিষা আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটি প্রথমে তদন্তকারী অফিসার পোস্টমর্টেম টেবিলে জমা দেননি। এই ঘটনায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ কমিশনারও স্বীকার করেন যে এটি ‘ল্যাপস’ বা ত্রুটি ছিল এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ত্বিষা শর্মার পরিবারের লোকজন পুলিশের তদন্তে আস্থা রাখতে পারছেন না বলেও জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের প্রভাবশালী পরিচয়ের কারণে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। পরিবার দ্বিতীয় পোস্টমর্টেমের দাবি তুলেছে এবং AIIMS দিল্লিতে পুনরায় ময়নাতদন্ত করানোর আবেদন জানিয়েছে।

ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিং এখনও পলাতক। তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে ধরতে ছয়টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং তাঁর সম্পর্কে তথ্য দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। আদালত তাঁর আগাম জামিনের আবেদনও খারিজ করেছে।
খবর : এইসময় অনলাইন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *