সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে কঠোর অবস্থানে মুখ্যমন্ত্রী

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২০ মে : সময়মতো কাজ না করলে বিপদে পড়বেন সরকারি কর্মচারীরা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণ করেই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। কাজে ফাঁকি দিয়ে আর রেহাই মিলবে না কর্মচারীদের। এই প্রসঙ্গে অসম সরকার রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য জারি করেছে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা। এই নির্দেশনায় পেনশনভোগীদের জন্যও এসেছে বড় স্বস্তির খবর।

নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পেনশনের মামলা নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছে অসম সরকার। মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জীবনের মূল্যবান সময় রাজ্য ও সমাজের সেবায় উৎসর্গ করা সরকারি কর্মচারীরা অবসরের পরও সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করবেন, সেটাই তাঁদের অধিকার। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে পেনশন পেতে অযথা বিলম্ব হওয়ায় তাঁদের মানসিক ও আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পেনশন প্রক্রিয়াকরণে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অসম সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পেনশনের মামলা নিষ্পত্তি না হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপর আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হবে। পাশাপাশি আরও কিছু সরলীকৃত প্রক্রিয়াও চালু করা হয়েছে।”

অসম সরকারের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব কার্যালয় ২৩ জুন ২০০৩-এ জারি হওয়া এসওপি ও নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘন করে পেনশনের কাজে অযথা দেরি করবে, সেই সব কার্যালয়ের প্রধানদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হবে। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে বিলম্বিত পেনশন মামলাগুলির একটি তালিকা Kritagyata পোর্টালের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রস্তুত করা হবে। সেই তালিকার কপি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও বিভাগগুলির জ্যেষ্ঠ সচিবদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের প্রধানদের কাছেও পাঠানো হবে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, পেনশন প্রক্রিয়াকরণের প্রতিটি ধাপে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন ২৫০ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হবে। সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটা যেতে পারে। এই জরিমানার টাকা FinAssam পোর্টালের মাধ্যমে বেতনের বিল থেকে কেটে নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (ডিডিও)-দের এই ব্যবস্থা অনুযায়ী জরিমানা কাটা নিশ্চিত করতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত তালিকা ARTPPG বিভাগে পাঠাতে হবে। জরিমানার হাত থেকে বাঁচতে সমস্ত বিভাগ, অধিদপ্তর ও অধীনস্থ কার্যালয়গুলিকে নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *