ট্রাম্প-শি বৈঠকের পরই বেইজিংয়ে পুতিন, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত

Spread the news

২০ মে : বিশ্বের তিন প্রভাবশালী শক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও রাশিয়াকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ফের নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের অল্প সময়ের মধ্যেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেইজিং সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। ধারাবাহিক এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতাকে ঘিরে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পুতিনের এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, এর পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বার্তা। চিন-রাশিয়ার ২০০১ সালের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সফরের আয়োজন করা হলেও মূল আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে জ্বালানি, নিরাপত্তা, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অর্থনীতি ক্রমেই চিনের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। একইসঙ্গে চিনও রাশিয়ার জ্বালানি ও কৌশলগত সম্পদের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।

শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে “পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২” গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রুশ গ্যাস চিনে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা, ড্রোন সরবরাহ এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় যৌথ কৌশল নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লন্ডনের কিংস কলেজের গবেষক মারিনা মিরনের মতে, এই সফরে বড় কোনও নাটকীয় পরিবর্তন না এলেও চিন-রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হবে। তার ভাষায়, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে, চ্যাথাম হাউজের বিশ্লেষক টিমোথি অ্যাশ মনে করেন, বর্তমান বাস্তবতায় রাশিয়া অনেকটাই চিনের ওপর নির্ভরশীল অবস্থানে রয়েছে। তার মতে, “বিশ্ব কূটনীতির ভারসাম্যের কেন্দ্র এখন ক্রমেই বেইজিংমুখী হয়ে উঠছে।” তবে ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক ওলেগ ইগ্নাতভের মতে, এই সম্পর্ককে শুধুমাত্র নির্ভরশীলতার দৃষ্টিতে দেখা ঠিক হবে না। বরং চিন ও রাশিয়া যৌথভাবে এমন একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে, যেখানে কোনো একক শক্তির আধিপত্য থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *