১৯ মে : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নরওয়ে সফর ঘিরে সোমবার রাতে অসলোতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের প্রেস ব্রিফিং চলাকালীন নরওয়ের সাংবাদিক Hili Ling মানবাধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পশ্চিম) CB George।
অসলোর এক হোটেলে আয়োজিত ওই সাংবাদিক বৈঠকে হিলি লিং প্রশ্ন তোলেন, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মহল কেন ভারতের উপর আস্থা রাখবে। প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালীন পরিস্থিতি একসময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু সময়ের জন্য বৈঠক ছেড়ে বেরিয়েও যান ওই সাংবাদিক, যদিও পরে তিনি ফের ফিরে আসেন।
প্রশ্নের জবাবে সিবি জর্জ ভারতের সংবাদমাধ্যমের বিস্তৃত পরিসরের কথা তুলে ধরে বলেন, দেশে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং শুধু দিল্লিতেই ইংরেজি, হিন্দি ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় ২০০টি টেলিভিশন সংবাদমাধ্যম সক্রিয় রয়েছে। ভারতের বৈচিত্র্য সম্পর্কে অনেক বিদেশি মহলের সঠিক ধারণা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কিছু “অজ্ঞ ও নামগোত্রহীন এনজিও”-র রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভারতের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হয়।
তিনি আরও বলেন, ভারতের সংবিধান নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। নারী অধিকারের প্রসঙ্গ টেনে সিবি জর্জ জানান, স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতে নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল, যেখানে বিশ্বের বহু উন্নত দেশ পরে সেই অধিকার দেয়। তাঁর বক্তব্য, জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের অধিকারই মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় উদাহরণ এবং ভারতে তা নিয়মিতভাবেই ঘটছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত অবশ্য আগের দিন থেকেই। সমাজমাধ্যমে হিলি লিং অভিযোগ করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই চলে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি বিশ্বের ‘প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’-এর প্রসঙ্গ টেনে ভারতের সমালোচনাও করেন তিনি। পরে নরওয়েতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস তাঁকে প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে প্রশ্ন করার আমন্ত্রণ জানায়। ঘটনাটি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সমাজমাধ্যমে ওই সাংবাদিকের পোস্ট শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন। তাঁর মন্তব্য, “যখন লুকানোর কিছু থাকে না, তখন ভয় পাওয়ারও কিছু থাকে না।”
প্রধানমন্ত্রীর ইউরোপ সফরের মাঝেই বিদেশের মাটিতে এই সাংবাদিক বৈঠক এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, চার দশকেরও বেশি সময় পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরওয়ে সফরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার ওসলোর বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী Jonas Gahr Store। সফরে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, ভারত ও নরওয়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করাই এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্তোরের উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর মতে, চার দশকের বেশি সময় পরে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই নরওয়ে সফর দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতি আনবে।



