গান্ধীবাগে ভাষা শহিদ স্মৃতি সৌধে জনস্রোত, শ্রদ্ধায় স্মরণ ভাষা শহিদদের

Spread the news

বিশ্বজিৎ আচার্য ও দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৯ মে : বাংলা ভাষা শহিদ দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার দিনভর শিলচরজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হল ১৯৬১ সালের ১৯ মে-র ভাষা আন্দোলনের শহিদদের। শহরের গান্ধীবাগ ভাষা শহিদ স্মৃতি সৌধে সকাল থেকেই নেমে আসে মানুষের ঢল। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে স্মৃতি সৌধে দ্বার খুলে দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষ, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন কাছাড়ের জেলা কমিশনার আয়ুষ গর্গ। সম্মিলিত শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, বিধায়ক ডাঃ রাজদীপ রায়, বড়খলার বিধায়ক কিশোর নাথ, ধলাইয়ের বিধায়ক অমিয়কান্তি দাসসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাতৃভাষার জন্য আত্মবলিদান দেওয়া ১১ জন শহিদের ত্যাগ বাঙালি সমাজ চিরকাল স্মরণে রাখবে। ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তাঁরা। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আলোচনা সভা, স্মরণোৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদযাত্রা ও পথনাটিকার আয়োজন করা হয়। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

সকালে শিলচর রেল স্টেশনের শহিদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদ দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শিলচর স্বর্গদুয়ার শ্মশানঘাটের শহিদ বেদী এবং রেলস্টেশনের শহিদ মিনারেও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা।

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিলচরের বিধায়ক ডাঃ রাজদীপ রায়, প্রাক্তন বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী, কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ এবং লক্ষীপুরের বিধায়ক কৌশিক রায় ভাষা শহিদ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী শিলচর রেল স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে “ভাষা শহিদ স্টেশন” করার দাবি পুনরায় উত্থাপন করেন। পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনের ১১ শহিদের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তার দাবিও জানান বক্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *