জনগণনায় চর-চাপরির মানুষ সহযোগিতা না করলে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হবেন : বসন্ত কুমার গোস্বামী

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৮ মে : যে সময়ে চর-চাপরি অঞ্চলে বসবাসকারী ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষদের একাংশ বিদেশি বলে সন্দেহ করে, সেই সময়ে বসন্তকুমার গোস্বামী বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। মুসলমান মানেই বিদেশি নয় উল্লেখ করে অসম সাহিত্য সভার সভাপতি বলেন, “মুসলমান মানে বিদেশি নয়। আগামী জনগণনায় চর-চাপরির মানুষ যদি সহযোগিতা না করেন, তাহলে অসমিয়ারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে পড়া ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। চরবাসীরা যদি জনগণনায় নিজেদের অসমিয়া পরিচয় না দিতেন, তাহলে ১৯৩১, ১৯৪১ কিংবা ১৯৫১ সালেই অসমিয়ারা সংখ্যালঘু হয়ে যেত।”

তিনি আরও বলেন, “চর-চাপরিতে বসবাসকারী অসমের মুসলমানদের লুইতপাড়িয়া অসমিয়া হিসেবে সাহিত্য সভা ইতিমধ্যেই স্বীকৃতি দিয়েছে। জনগণনায় তারা ‘ব’ নয়, ‘অ’ লিখবে। এটি জাতির জন্য ইতিবাচক দিক। কারণ বড়ো বা মিছিং জনগোষ্ঠী কখনও নিজেদের অসমিয়া বলে না। কিন্তু চরবাসীরাই নিজেদের অসমিয়া বলে পরিচয় দেয়।”

সম্প্রতি ঘোষিত উচ্চ ও উচ্চতর মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে বসন্তকুমার গোস্বামী বলেন, “চরাঞ্চলে অসমিয়া বিষয়ে ফেল করা ছাত্র-ছাত্রী একজনও নেই। চর অঞ্চলে অসমিয়া বিষয়ে ১০০-র মধ্যে ১০০ নম্বরও পেয়েছে অনেকেই। কিন্তু শিবসাগর ও যোরহাটে অসমিয়া বিষয়ে ফেল করা ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। চর অঞ্চলে একজন ছাত্রছাত্রীও অসমিয়া বিষয়ে ফেল করেনি।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি সমাজকে ভেঙে দেয়, আর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সেই ভাঙা হাড়গুলোকে জোড়া লাগায়। তাই কয়াকুছিতে এসেছি। বৈচিত্র্যের মধ্য থেকে ঐক্যের সূত্র খুঁজে বের করে সাংস্কৃতিক বন্ধনের মাধ্যমে নিজেদের অসমিয়া হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। চর-চাপরির মানুষ সেটাই করে দেখিয়েছে।”
উল্লেখ্য, রবিবার অসম সাহিত্য সভার উদ্যোগে এবং ‘চর-চাপরি ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি উপ-সমিতি’র সহযোগিতায় কয়াকুছিতে অনুষ্ঠিত “বিদ্যায়তনিক ও সাংস্কৃতিক সমাবেশ-২০২৬” অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন বসন্ত কুমার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *