বরাক তরঙ্গ, ১২ মে : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মদিন। সারা বিশ্বেই এই দিনটি বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি আদর্শ মহাবিদ্যালয় বড়খলাতেও উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে উদযাপিত হলো কবিগুরুর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম জয়ন্তী ‘তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যতদূরে আমি ধাই ….’ অনুষ্ঠান। কলেজের বাংলা বিভাগের উদ্যোগে এবং আইকিউএসসির সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ ডক্টর সাহাবুদ্দিন আহমদ। প্রদীপ প্রজ্বলন এবং কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় ।
এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতেই উদ্বোধনী সংগীত ‘হে নূতন দেখা দিক আরবার’ পরিবেশন করে কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডঃ মৌসোনা নাথ। কবিগুরুর জাতীয়তাবাদ নিয়ে বক্তব্য রাখেন আইকিউএসি কোর্ডিনেটর ডঃ মফিদুর রহমান। বর্তমান সময়ে কবিগুরু কতটা প্রাসঙ্গিক সে বিষয়ে বক্তব্য রাখেন একাডেমিক কোর্ডিনেটর ডঃ বাহারুল আলম লস্কর। এদিনের মুখ্য অতিথি এই মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে রবীন্দ্র প্রতিভার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। রবীন্দ্রনাথের গ্রাম ভাবনা ও অর্থনৈতিকভাবে কৃষকদের সবলীকরণের লক্ষ্যে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপের উপর বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিভাগের বিভাগীয় প্রধান দীপঙ্কর রায়। রবীন্দ্রনাথের সমাজ দর্শন নিয়ে বক্তব্য রাখেন সমাজতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জয়দীপ গোস্বামী। এরপর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুরুশিখা দেবনাথ, অভিনিতা সিকদার ,দীক্ষা দে, জেসমিন ডেউরি মিলে পরিবেশন করেন সমবেত সঙ্গীত ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’। মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রী পিয়ালী, তৃষা ও সোনালীর পরিবেশিত রবীন্দ্রনৃত্য অনুষ্ঠানটিতে ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়। দ্বৈত কন্ঠে গান পরিবেশন করেন মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রী মৌমিতা দেব ও অধ্যাপিকা মৌসোনা নাথ। তারপর একে একে মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র ধীরাজ, দিপান্জলী, শ্যামল, প্রিয়াংশু বিভিন্ন আঙ্গিকের রবীন্দ্রসঙ্গীতপরিবেশন করে। ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত নৃত্য ও গানে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন শিক্ষাবিভাগের অধ্যাপক রূপশ্রী পাল। রবীন্দ্র জয়ন্তী উপলক্ষে মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষাবিভাগ আয়োজিত করে রবীন্দ্র জীবন দর্শনের উপর প্রবন্ধ লেখা প্রতিযোগিতা। গান-গল্প-কবিতা-কথায় ১৬৫ তম রবীন্দ্রজয়ন্তী ছাত্রছাত্রী অধ্যাপক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের সক্রিয় যোগদানের মাধ্যমে সাফল্যমণ্ডিত হয়ে উঠার জন্য বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডঃ মৌসোনা নাথ সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।



