বিয়ের আড়াই মাসের মধ্যেই রহস্যজনক মৃত্যু নববধূর, গ্রেফতার স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ি

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৮ মে : বিয়ের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে কাটলিছড়ায়। মৃতার নাম সুস্মিতা দাস। বৃহস্পতিবার বিকেলে কাটলিছড়া থানার অন্তর্গত রাংগাবাক দ্বিতীয় খণ্ড এলাকার হাইস্কুল রোডের একটি বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে কাটলিছড়া থানার ওসি নিরুপম নাথ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত চালান। পরে রাত প্রায় ৮টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য এস কে রায় সিভিল হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়। ঘটনার পর মৃতার বাবা মহীতোষ দাস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জামাতা অমিত দেব, শ্বশুর অজয় লাল দেব এবং শাশুড়ি মণি ঘোষ দেবের নাম উল্লেখ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করে শুক্রবার হাইলাকান্দি জেলা আদালতে পাঠিয়েছে।

শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে সুস্মিতার মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা শেষকৃত্যের জন্য মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, প্রায় আড়াই মাস আগে সামাজিকভাবে সুস্মিতার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। পরিবারের দাবি, স্বামী অমিত দেব নিয়মিত মদ্যপ অবস্থায় টাকা ও সোনার গয়নার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। এসব বিষয়ে সুস্মিতা মোবাইল ফোনে তাঁর পরিবারকে জানিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। পরিবারের আরও দাবি, চলতি মাসের ৬ মে সুস্মিতার প্রথমবার বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। তবে স্বামীর বাইরে যাওয়ার কারণে ৮ মে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। মৃতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *