মণিপুরে জঙ্গি দমনে নতুন কৌশল নিচ্ছে কেন্দ্র, বাড়ছে নিরাপত্তা জোরদার

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৩ এপ্রিল : দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও মণিপুরের সহিংস পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে দমনে নকশাল-প্রভাবিত রাজ্যগুলির ধাঁচে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কেন্দ্র সরকার।

মাওবাদী অধ্যুষিত রাজ্যগুলির আদলে মণিপুরে জঙ্গিদের ঘেরাও করার প্রস্তুতি চলছে। এর জন্য রাজ্যে মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF)-কে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (BSF) এবং আসাম রাইফেলসকেও সেনাবাহিনীর সঙ্গে নতুন ভূমিকায় দেখা যেতে পারে।

নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে সেনা, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF), আসাম রাইফেলস এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে এবং যৌথ অভিযানের কার্যকারিতা বাড়ানো হবে। মায়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ রোধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মাদক চক্রের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হবে।
সহিংসতা-প্রবণ এলাকাগুলিতে ৩০০-রও বেশি বুলেটপ্রুফ সাঁজোয়া গাড়ি মোতায়েন করা হতে পারে। এছাড়া নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চল থেকে CRPF-এর একাধিক কোম্পানি মণিপুরে পাঠানো হবে। জঙ্গল যুদ্ধে প্রশিক্ষিত CRPF-এর কোবরা (CoBRA) ইউনিটকেও মণিপুরে মোতায়েন করা হতে পারে।

নকশাল অধ্যুষিত অঞ্চলের মতোই মণিপুরে অল্প দূরত্বে ফরোয়ার্ড অপারেটিং বেস (FOB) স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী ঘেরাও তৈরি করা হবে। প্রথমত, সীমান্ত এলাকা থেকে জঙ্গিদের রসদ সরবরাহ বন্ধ করা হবে। দ্বিতীয়ত, অভ্যন্তরীণ এলাকায় FOB-এর মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গিদের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে দেবে।

সূত্রের খবর, জঙ্গিদের কোনও নিরাপদ আশ্রয় না রাখতে নতুন কৌশল তৈরি করছে নিরাপত্তা বাহিনী। ভারত-মায়ানমার সীমান্তে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হবে। সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনী ও BSF নজরদারি বাড়াবে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ এলাকায় CRPF, কোবরা, আসাম রাইফেলস এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *