মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২১ এপ্রিল : পাথারকান্দিতে কার শিরে উঠবে বিজয়ের মুকুট? আগামী ৪ মে-র ফল ঘোষণাকে ঘিরে জোর জল্পনা, বিজেপির হ্যাটট্রিক নাকি কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন!নির্বাচন পরবর্তী সময় পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ফলাফল প্রকাশের পর বিজয়ের মুকুট কার মাতায় উঠবে? চায়ের দোকান, বাজার, পাড়ার মোড় কিংবা রাজনৈতিক অন্দরমহল সবখানেই এখন চলছে ফলাফল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ। শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই নিজেদের প্রার্থীর জয় নিয়ে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের মতে, কেন্দ্রের দু’বারের বিধায়ক তথা মন্ত্রী এবং ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু পালের জয়ের সম্ভাবনাই সবচেয়ে প্রবল।বিজেপি শিবিরের দাবি, ডবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং জনমুখী প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষের জীবনমান বদলে দিয়েছে। বিশেষ করে বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পালের ব্যক্তিগত জনসংযোগ, ধারাবাহিক উপস্থিতি এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগ তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
পাথারকান্দি বিধানসভায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা ছিল—একই প্রার্থী পরপর দু’বারের বেশি বিধায়ক নির্বাচিত হন না। কিন্তু সেই ‘অপয়া ধারা’ ভেঙে কৃষ্ণেন্দু পাল ইতিমধ্যেই টানা দু’বারের বিধায়ক হয়েছেন। এবার তৃতীয়বার জয় ছিনিয়ে এনে হ্যাটট্রিক গড়ে নতুন রাজনৈতিক নজির স্থাপন করবেন, এমনই দৃঢ় বিশ্বাস বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের।বিজেপির মূল শক্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে তাদের সুসংগঠিত সাংগঠনিক ভিত্তিকে। বুথ স্তর থেকে শুরু করে মণ্ডল, জেলা, প্রদেশ এবং কেন্দ্রীয় স্তর পর্যন্ত এক শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য সংগঠন কাঠামো রয়েছে দলের। নির্বাচনী ময়দানে এই সংগঠনই প্রার্থীর প্রচারকে সহজে জনমানসে পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা পালন করে।বিশেষজ্ঞদের মতে, পাথারকান্দির মিশ্র জনবিন্যাসেও বিজেপির দীর্ঘদিনের একটি শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। বাগান, বস্তি এবং হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বিজেপির অবস্থান আগে থেকেই দৃঢ় ছিল। কৃষ্ণেন্দু পালের দুই দফার কার্যকালে সেই ভিত আরও মজবুত হয়েছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশও উন্নয়ন ও সুশাসনের নিরিখে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। ফলে দলীয় নেতা-কর্মীদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস শিবিরও কিন্তু একটুও পিছিয়ে নেই। প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক তথা এবার কংগ্রেস প্রার্থী কার্তিক সেনা সিনহার সমর্থকরাও নিজেদের প্রার্থীর জয় নিয়ে সমানভাবে আশাবাদী। তাদের মতে, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক এবং মণিপুরি সম্প্রদায়ের ভোটে একক আধিপত্যের পাশাপাশি বিজেপি-বিরোধী ভোট একজোট হলে জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক মণিলাল বাবুও দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে ম্যারাথন প্রচার চালিয়েছেন। যদিও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাংগঠনিক শক্তির নিরিখে বিজেপির তুলনায় কংগ্রেস অনেকটাই পিছিয়ে। বুথভিত্তিক সংগঠন ও কর্মী সক্রিয়তার দিক থেকেও কংগ্রেসের উপস্থিতি ততটা শক্তিশালী নয়।তবুও নির্বাচনের অঙ্ক কখনও শুধুই সংগঠনের জোরে মেলে না—মাঠে শেষ কথা বলে জনতা জনার্দনের রায়। তাই আপাতত জয়-পরাজয়ের সমস্ত জল্পনা স্থগিত রেখে সবাই তাকিয়ে রয়েছে ৪ মে-র ফল ঘোষণার দিকে।রাজ্যের অন্যতম আলোচিত কেন্দ্র হিসেবে বহুদিন ধরেই পরিচিত পাথারকান্দি বিধানসভা। ফলে ২০২৬-এর এই নির্বাচনে কে শেষ পর্যন্ত মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে মসনদে বসবেন কৃষ্ণেন্দু পাল নাকি কার্তিক সেনা সিনহা সেই উত্তর দেবে সময়ই। এখন শুধু অপেক্ষ ৪ মে ফলাফলের দিন।



