দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২১ এপ্রিল : মঙ্গলবার শিলচরের সোনাই রোডস্থিত মহাপ্রভু শ্রীরামকৃষ্ণ শঙ্করমঠ ও মিশনে জগৎগুরু আদি শঙ্করাচার্যের জন্মতিথি সনাতন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান মেনে সারাদিনব্যাপী পালিত হয়। ভক্তি, ধর্মীয় আলোচনা এবং প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে শঙ্করাচার্যের অমর বাণী ‘ব্রহ্মসত্য জগৎ মিথ্যা’ পুনরায় প্রতিধ্বনিত হয় সনাতনী সমাজে। এই আয়োজন বরাক উপত্যকার ধর্মীয় চেতনার এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে উঠে আসে।
ভোর থেকেই মঠ প্রাঙ্গণে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে আদি শংকরাচার্যের জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনা সভা, শংকর স্তোত্র পাঠ, শিব স্তোত্র, ভাগবত গীতা পাঠ, ভজন-কীর্তন, শান্তির বাণী পাঠ এবং ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। শত শত ভক্তের উপস্থিতিতে মঠ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে, যা শিলচরের সনাতনী সমাজের ঐক্য ও অংশগ্রহণের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে মঠ ও মিশনের কর্মাধ্যক্ষ বিজ্ঞানানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ বলেন, “‘ব্রহ্মসত্য জগৎ মিথ্যা’—আচার্য শঙ্করের এই বাণী গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। এই জগতের সব কিছুই ক্ষণস্থায়ী; একমাত্র চিরন্তন সত্য হল ব্রহ্ম। সময়ের প্রবাহে সবকিছু বিলীন হয়ে যায়, কিন্তু পরম সত্য অটুট থাকে। শঙ্করাচার্য তাঁর সাধনার মাধ্যমে এই চিরন্তন সত্য উপলব্ধি করেছিলেন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাত্র ৩২ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে আদি শঙ্করাচার্য ভারতজুড়ে মঠ ও ধর্মীয় কেন্দ্র স্থাপন করে হিন্দু ধর্মকে নতুন দিশা ও শক্তি প্রদান করেন। তাঁর দর্শন পরবর্তীকালে রামানুজাচার্য, মধ্বাচার্যসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বহু সাধক-সন্তকে প্রভাবিত করেছে এবং সনাতন বৈদিক ধর্মের সংরক্ষণ ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে শিলচর ভোলাগিরি আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী ভুবনেশ্বরানন্দ গিরি মহারাজ, আত্মানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজসহ রামু দেবনাথ, বিপ্লব দে, সুজিত মিত্র, নিখিল মিত্র, শংকর দত্ত, রাকেশ মিত্র, সুমন মিত্র, রূপন মিত্র, নিউটন মিত্র, সুজিত দে, মিতা দে, বিউটি দে, শিখা দে, রূপা দে, শিপ্রা দে, অভিরূপা, প্রকাশ দাস, তুলি, স্নিগ্ধা, অনু দে, সুস্মিতা রায়, রুদ্র প্রতাপ রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



