রামকৃষ্ণনগরে বিজেপির শক্তিপ্রদর্শন, জনসমুদ্রে ভাসল নীতিন নবীনের নির্বাচনী সভা

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৪ এপ্রিল : শ্রীভূমি জেলার রামকৃষ্ণনগর বিধানসভা কেন্দ্রে শনিবার বিজেপির বিশাল জনসভা ঘিরে নজিরবিহীন জনসমাগমের সাক্ষী থাকল এলাকা। রামকৃষ্ণনগর ক্রীড়া সংস্থার বিস্তীর্ণ মাঠ কার্যত পরিণত হয় জনসমুদ্রে। সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের ঢল, হাতে দলীয় পতাকা ও মুখে স্লোগানে উৎসবের আবহ তৈরি হয় গোটা এলাকায়।

জনসভার মূল আকর্ষণ ছিলেন বিজেপি নেতা নীতিন নবীন, যিনি দলীয় প্রার্থী বিজয় মালাকারের সমর্থনে প্রচারে অংশ নিতে উপস্থিত হন। তাঁর আগমন ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। মঞ্চে উঠতেই করতালির গর্জনে মুখরিত হয়ে ওঠে সভাস্থল, যা এলাকায় বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নীতিন নবীন বরাক উপত্যকার সাম্প্রতিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিকল্পিত বিনিয়োগ, উন্নত সড়ক ও রেল যোগাযোগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে অঞ্চলটি নতুন উন্নয়নের পথে এগিয়েছে। এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান যেমন উন্নত হয়েছে, তেমনি বেড়েছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে কংগ্রেস শাসনামলে আঞ্চলিক বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে বর্তমান সরকার সেই বৈষম্য দূর করে সমতাভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করে নবীন বলেন, দেশের সর্বত্র উন্নয়নের ধারা পৌঁছে যাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে রাজ্যে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সভা থেকে তিনি আহ্বান জানান, উন্নত ও আত্মনির্ভর রামকৃষ্ণনগর গড়তে বিজেপি প্রার্থী বিজয় মালাকারকে বিপুল ভোটে জয়ী করতে হবে।

জনসভায় উপস্থিত ছিলেন অসম প্রদেশ বিজেপির সভাপতি দিলীপ শইকিয়াও। তিনি বিজয় মালাকারকে “কাজের মানুষ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিজেপি সরকারের আমলে রামকৃষ্ণনগরে মেডিক্যাল কলেজ, সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও পানীয় জলের প্রকল্পসহ একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের এই ধারা বজায় রাখতে হলে মালাকারকে পুনরায় জয়ী করে দিশপুরে পাঠানো জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *