বরাক তরঙ্গ, ৪ এপ্রিল : বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। রাজ্যের প্রতিটি জেলার মতো গোলাঘাট জেলার পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রেও রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে জোরদার নির্বাচনী তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শাসক দল বিজেপির পাশাপাশি বিরোধী দলগুলিও সমানতালে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার দেড়গাঁও বিধানসভা কেন্দ্রের নাহরণিতে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সভায় অংশ নেন বিরোধী জোট কংগ্রেস প্রার্থী সাগরিকা বরার সমর্থনে আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি গৌরব গগৈ এবং জাতীয় পরিষদের সভাপতি লুরিনজ্যোতি গগৈ। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে গৌরব গগৈ বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আজ আমরা বিরোধী দলগুলো একজোট হয়েছি অসমকে বাঁচানোর জন্য। অসমে রাজনীতি করতে আসা অনেকেই কেবল নিজেদের স্বার্থের জন্য আসে, বিশেষ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। প্রকৃতপক্ষে যারা মানুষের সেবা করতে রাজনীতিতে আসতে চান, তাদের বিজেপিতে কোনও জায়গা নেই। বর্তমানে সিন্ডিকেট চালানো ব্যক্তিরাই হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস সরকারের সময় মানুষ স্বাধীনভাবে সমালোচনা করতে পারত, কিন্তু এখন বাক-স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে মহিলারা বিজেপি কার্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা হুমকি দেন যে ১২৫০ টাকার ভাতা কেটে দেওয়া হবে। বিজেপির সভায় যোগ দিলে মহিলাদের ১২৫০ টাকা দেওয়া হয়, আর যারা সমালোচনা করেন তারা তা পান না। এটি সরকারি প্রকল্প, বিজেপির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি জনগণের টাকা। সরকারকে যোগ্যতার ভিত্তিতে এই অর্থ প্রদান করতে হয়। আমাদের জোট সরকার গঠিত হলে দল-মত নির্বিশেষে যোগ্য সব মহিলা ঘরে বসেই এই অর্থ পাবেন।”
বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “প্রথমবারের মতো আমরা একটি পৃথক বিভাগ গঠন করব এবং প্রতি মাসে ১২৫০ টাকা করে পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা করব। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ৫০ হাজার বিঘা জমি আদানি ও আম্বানিকে দিয়েছেন এবং ১২ হাজার বিঘা জমি নিজে নিয়েছেন। আমাদের সরকার ক্ষমতায় এলে অসমের ১০ লক্ষ মানুষকে জমির পাট্টা প্রদান করা হবে।”



