বৈঠাখালে বিজেপির জোরদার প্রচার পিছিয়ে নেই কংগ্রেসও

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৩ এপ্রিল : আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলা রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই চরম উত্তেজনার পারদ ছুঁয়েছে পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্র। কাগজে-কলমে মোট এগারোজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও, বাস্তব চিত্রে এখানে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বিজেপি ও কংগ্রেস এই দুই প্রধান শক্তির মধ্যেই। ফলে গোটা কেন্দ্র জুড়েই এখন দ্বিমুখী রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্পষ্ট আবহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারের দৌড়ে শাসক দল বিজেপি অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। গ্রাম থেকে শহর প্রতিটি এলাকায় সংগঠিতভাবে প্রচার চালিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে গেরুয়া শিবির। তবে পিছিয়ে নেই বিরোধী কংগ্রেসও। সংগঠন কিছুটা নড়বড়ে হলেও কংগ্রেস প্রার্থী কার্তিকসেনা সিনহা শাসক দলের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এনে সাধারণ মানুষের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, নির্বাচনী উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে আগামী ৭ এপ্রিল পাথারকান্দির লালমাটিতে আসার কথা রয়েছে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিজেপি শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে। তার আগেই নির্বাচনী প্রচারে শেষ মুহূর্তের জোর বাড়াতে মাঠে নেমেছে দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা।

শুক্রবার এরই অংশ হিসেবে পাথারকান্দি কেন্টে বৈঠাখাল জি.পি এলাকায় ব্যাপক প্রচার কর্মসূচি পালন করে বিজেপি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সেদিন বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু পাল মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচিতে কাছাড়ে উপস্থিত থাকলেও তাঁর অনুপস্থিতিতেও দলীয় কর্মীরা প্রচারে কোনও খামতি রাখেননি।

বৈঠাখাল জিপি সভাপতি মণিরাজ কুর্মির তত্ত্বাবধানে এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক ঘরোয়া সভা ও মিছিলের আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে চা বাগান সম্প্রদায়ের মানুষদের পাশাপাশি হিন্দু বাঙালি, মুসলিম এবং মণিপুরি সম্প্রদায়ের মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন স্থানে উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে দেয়, নির্বাচনী প্রচার নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কতটা তুঙ্গে।

সভাগুলিতে উপস্থিত সাধারণ মানুষের বক্তব্যেও উঠে আসে উন্নয়নমুখী রাজনীতির প্রতি তাদের সমর্থন। অনেকেই স্পষ্টভাবে জানান, তারা জাতপাত বা বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন; বরং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তারা আবারও বিজেপির পক্ষেই রায় দিতে আগ্রহী। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে গঠিত সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রসঙ্গ টেনে এনে তাঁরা তৃতীয়বারের জন্যও বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু পালের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সব মিলিয়ে পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী লড়াই দিন যত এগোচ্ছে, ততই তীব্র আকার ধারণ করছে। বিজেপি ও কংগ্রেস উভয় দলই নিজেদের শক্তি প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কার পক্ষে রায় দেন এই কেন্দ্রের সচেতন ভোটাররা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *