বরাক তরঙ্গ, ২৯ মার্চ : রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জোরকদমে চলছে কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার অভিযান। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই কংগ্রেস তাদের প্রচার আরও তীব্র করে তুলছে। প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব গগৈ শনিবার তিতাবর বিধানসভা কেন্দ্রের বিরোধী ঐক্য সমর্থিত এবং কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী প্রণ কুর্মীর সমর্থনে একাধিক নির্বাচনী সভায় অংশ নিয়ে স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা, আশীর্বাদ এবং পূর্ণ সমর্থন কামনা করেন।
গৌরব গগৈ বলেন, চা জনগোষ্ঠীর একজন সমাজসেবক, পরিশ্রমী এবং প্রবীণ কংগ্রেস নেতাকে এবারে তিতাবরে প্রার্থী করা হয়েছে। এটি শুধু একজন প্রার্থীর সমর্থন নয়, বরং চা জনগোষ্ঠীর মর্যাদা, অধিকার এবং উন্নয়নের লড়াইয়ের প্রতি সম্মান।
তিনি তিতাবরের ভোটারদের আহ্বান জানান, সবাই একসঙ্গে কংগ্রেস প্রার্থী প্রণ কুর্মীকে জয়ী করতে এগিয়ে আসুন। গগৈ আরও বলেন, এবার অসমের মানুষ মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-র একনায়কতান্ত্রিক সরকারের থেকে মুক্তি চায় এবং তাঁকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত। তিনি অভিযোগ করেন, মহিলাদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প দেওয়ার নাম করে বিজেপি সরকার ভয়-ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি করছে। বিজেপির সভায় না গেলে বা ‘মন কি বাত’ না শুনলে মহিলাদের প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

গগৈ বলেন, সরকারের কাজ মানুষের সুবিধা দেওয়া, শুধু দলীয় সভায় গেলে ১২৫০ টাকা দেওয়া নয়। সরকারের দায়িত্ব শিক্ষা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা। কিন্তু হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এখন সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং মদের দোকান বাড়ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের দূরে যেতে হচ্ছে এবং অনেক গরিব পরিবার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে না। অনেকেই মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। সরকারি হাসপাতালেও পর্যাপ্ত ডাক্তার ও ওষুধ নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গৌরব গগৈ আরও বলেন, প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ অসমের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সেই বিশ্বাসের প্রতিদান দেননি এবং এখন তাঁর পরিবারকেও রাজনৈতিক আক্রমণের লক্ষ্য বানানো হয়েছে। নিজের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগ তুলে গগৈ বলেন, মানুষ সব বুঝতে পারছে। এমনকি প্রয়াত তরুণ গগৈয়ের পরিবারকেও টেনে আনা হচ্ছে “নোংরা রাজনীতিতে”।
রসিকতার ছলে তিনি বলেন, প্রমাণ দিতে না পারলে বাড়ি ফিরবেন না বলে দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী—এখন মানুষ জানতে চায় তিনি রাতে কোথায় থাকেন। গগৈ তাঁর ভাষণে গায়ক জুবিন গর্গ-কে নিয়ে করা মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জুবিন গার্গকে ন্যায় না দিলে বিজেপিকে ভোট না দিতে বলেছিলেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, কিন্তু এখনও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য প্রকল্প আরও উন্নত করা হবে এবং কোনও রাজনৈতিক সভায় না গিয়েও বাড়িতে বসে তারা সুবিধা পাবেন।
এছাড়াও ‘মিয়া’ ইস্যু নিয়ে বিজেপির রাজনীতির সমালোচনা করে গগৈ প্রশ্ন তোলেন, এআইইউডিএফের সমর্থনে নিজেদের প্রার্থী জেতানোর সময় সেই বিষয়টি কোথায় ছিল। তিনি আরও প্রশ্ন করেন, বিতর্কিত মন্তব্যকারী বদরুদ্দিন আজমল-এর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
শেষে তিনি বলেন, তিতাবরের কংগ্রেস প্রার্থী প্রণ কুর্মী প্রয়াত তরুণ গগৈকে নিজের গুরু হিসেবে মানতেন। তাই তাঁকে জয়ী করে তিতাবরকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান গৌরব গগৈ।



