বরাক তরঙ্গ, ২৫ মার্চ : ডিরেক্টরেট অফ এনফোর্সমেন্ট (ইডি)-এর গুয়াহাটি জোনাল অফিস ‘প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট, ২০০২’ (PMLA)-এর আওতায় একটি প্রোভিশনাল অ্যাটাচমেন্ট অর্ডার (PAO) জারি করে আসামের হাইলাকান্দির শিফা হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের মালিক মোবজ্জিল হোসেন বড়ভূইয়ার প্রায় ৫৫.৩৩ লক্ষ টাকার স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত (অ্যাটাচ) করেছে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB-PMJAY) প্রকল্পে বড়সড় জালিয়াতির অভিযোগে।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, হাইলাকান্দি থানায় দায়ের হওয়া ১৯ নভেম্বর ২০২২ তারিখের এফআইআর (নং ৩১৬/২০২২) এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখের চার্জশিট (নং ৩৭/২০২৩)-এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। মামলাটি ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দায়ের হওয়ায় তা PMLA-এর নির্ধারিত অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।
তদন্তে উঠে এসেছে, AB-PMJAY প্রকল্পের অধীনে তালিকাভুক্ত শিফা হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ২২ এপ্রিল ২০১৯ থেকে ৫ নভেম্বর ২০২২-এর মধ্যে প্রকৃত চিকিৎসা পরিষেবা না দিয়েই ৭৭৮টি ভুয়া রিইমবার্সমেন্ট দাবি করে, যার মোট পরিমাণ ৬৪,১০,৭৮০ টাকা। আরও জানা গেছে, ঘোষিত ঠিকানায় হাসপাতালটির কোনো অস্তিত্বই ছিল না।
অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার ছক কষে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডধারী সুবিধাভোগীদের নামমাত্র ৩০০ টাকার বিনিময়ে অস্থায়ী ব্যবস্থায় এনে হাসপাতালের বেডে শুইয়ে ছবি তোলাতেন। পরে সেই সাজানো ছবি ট্রানজ্যাকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (TMS) পোর্টালে আপলোড করে এমন চিকিৎসার জন্য দাবি তোলা হতো, যা বাস্তবে কখনও করা হয়নি।
এই জালিয়াতির মাধ্যমে আতল অমৃত অভিযান সোসাইটি (অসম সরকারের স্টেট হেলথ এজেন্সি) থেকে মোট ৫৭.৯৬ লক্ষ টাকা শিফা হাসপাতালের ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, এই অর্থ PMLA অনুযায়ী ‘অপরাধজনিত আয়’ হিসেবে চিহ্নিত এবং তা নগদ উত্তোলন ও ইউপিআই লেনদেনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ইডির তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি এই অর্থ প্রাপ্তির সময়কাল এবং পরবর্তী সময়ে পাঁচটি জমি ক্রয় করেন এবং দুটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেন, যার কোনো বৈধ আয়ের উৎস দেখাতে পারেননি।
ফলে ইডি মোট ৬টি স্থাবর সম্পত্তি পাঁচটি জমির খণ্ড এবং একটি বহুতল ভবনের একতলা অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করেছে, যার আনুমানিক মূল্য ৫৫.৩৩ লক্ষ টাকা। এই সম্পত্তিগুলি অপরাধজনিত আয়ের সমপরিমাণ হিসেবে বিবেচিত। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে বলে ইডি জানিয়েছে।



