২৩ মার্চ : অত্যন্ত গোপনীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য পাকিস্তানের হাতে পাচারের অভিযোগে ভারতীয় বায়ুসেনার এক অসামরিক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজস্থান পুলিশের ইন্টেলিজেন্স শাখা এবং বায়ুসেনার গোয়েন্দা বিভাগের যৌথ অভিযানে ধৃতের নাম সুমিত কুমার (৩৬)। তিনি উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের বাসিন্দা হলেও অসমের ডিব্রুগড় জেলার চাবুয়া বায়ুসেনা ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, সুমিত ‘মাল্টি টাস্কিং স্টাফ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি শত্রু দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে গোপন সামরিক তথ্য পাচার করছিলেন। গোয়েন্দাদের দাবি, এই গ্রেপ্তারির মাধ্যমে ভারতে সক্রিয় একটি বড় বিদেশি গুপ্তচর চক্রের হদিশ মিলেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রাজস্থানের জয়সলমের থেকে ঝাবরা রাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করার পর তদন্তে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। জেরার সময় রাজস্থান পুলিশের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (ইন্টেলিজেন্স) প্রফুল্ল কুমারের সামনে প্রকাশ পায় যে, এক বায়ুসেনা কর্মীর সঙ্গে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। এরপরই তদন্তের জাল বিস্তার করে চাবুয়া ঘাঁটির কর্মী সুমিত কুমারের খোঁজ পান গোয়েন্দারা।
দীর্ঘ নজরদারির পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ২০২৩ সাল থেকেই সুমিত নিয়মিতভাবে শত্রু দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং অর্থের বিনিময়ে গোপন নথি পাচার করছিলেন। অভিযোগ, তিনি চাবুয়া ও বিকানেরের নাল বায়ুসেনা ঘাঁটির অবস্থান, সেখানে মোতায়েন যুদ্ধবিমান ও মিসাইল ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য, এমনকি বায়ুসেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ব্যক্তিগত তথ্যও পাচার করেছেন।
এছাড়াও, নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের জন্য ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করতেও তিনি সাহায্য করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
গত ২২ মার্চ সুমিতকে গ্রেফতার করে জয়পুরের বিশেষ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং দেশজুড়ে এই গুপ্তচর চক্রের বিস্তার কতটা, তা জানতে ধৃতকে দফায় দফায় জেরা করছেন



