স্ত্রী হত্যার দায়ে যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ

বরাক তরঙ্গ, ২২ নভেম্বর : স্ত্রী হত্যার দায়ে যুবককে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা শোনালো কাছাড়ের অ্যাডিশনাল সেশন জজ (ফাস্ট ট্রাক কোর্ট) বঙ্কিম শর্মার আদালত। সাজাপ্রাপ্ত যুবক সুভাষ পাল শিলচর শহর সংলগ্ন দুধপাতিল সপ্তম খণ্ড লার্সিংপার এলাকার বাসিন্দা। পেশায় অটোচালক সুভাষকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা শোনানোর সঙ্গে সঙ্গে জরিমানা করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। জরিমানা অনাদায়ে তাকে ভোগ করতে হবে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড। সুভাষের পত্নী আল্পনা সিংহের মৃত্যু ঘটে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে। আল্পনার বাবার বাড়ি হাইলাকান্দি জেলার পাঁচগ্রাম থানা এলাকার পলারপারে। তার সঙ্গে সুভাষের বিয়ে হয়েছিল ২০১৮ সালের ২১ জুন। আল্পনার মৃত্যুর পর তার বাবা আদরমণি সিংহ জামাতা সুভাষ পাল, সুভাষের দুই ভাই দেবু পাল ও শেখর পাল এবং ভ্রাতৃবধূ (দেবু পালের স্ত্রী) স্বপ্না পালকে অভিযুক্ত করে শিলচর মালুগ্রাম পুলিশ ফাঁড়িতে দায়ের করেন এজাহার।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী সুভাষ তার দুই ভাই এবং ভ্রাতৃবধূর প্ররোচনায় এক লক্ষ টাকা যৌতুক চেয়ে আল্পনার ওপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। এই খবর পেয়ে তিনি (আদরমণি সিংহ) অন্যান্য পরিজনদের নিয়ে আল্পনার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সুভাষ সহ তার দুই ভাই এবং ভ্রাতৃবধূর সঙ্গে কথাবার্তা বলে তাদের নির্যাতন না চালানোর অনুরোধ জানান। যদিও এতে কোনও কাজ হয়নি, আল্পনার ওপর নির্যাতন অব্যাহত থাকে। এসব চলতে থাকার মধ্যে ২০১৯ সালের ১ মার্চ দেবু তাদের ফোন করে জানান আল্পনার মৃত্যু ঘটেছে। এই খবর পেয়ে তারা ছুটে আসেন দুধপাতিলে আল্পনার শ্বশুরবাড়িতে। এসে দেখতে পান আল্পনা যে ঘরে থাকতেন, সেই ঘর তালা বন্ধ। তখন তারা খবর দেন মালুগ্রাম পুলিশ ফাঁড়িতে। পুলিশ বাড়িতে পৌঁছে তালা ভাঙার পর দেখা যায় ঘরের ভেতর বিছানার উপর শায়িত রয়েছে আল্পনার মৃতদেহ। এবং মৃতদেহের গলায় ছিল একটি চিহ্ন। এজাহারে এভাবে ঘটনার বয়ান দিয়ে আদরমণি সিংহ সন্দেহ ব্যক্ত করেন আল্পনাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। এজাহারের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত চালায়। গ্রেফতার করা হয় সুভাষকে। এরপর বিস্তারিত তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পেশ করা হয় চার্জশিট। এতে অবশ্য অভিযুক্ত করা হয় শুধু সুভাষকে। এর ভিত্তিতে বিচার প্রক্রিয়া শেষে সুভাষকে দোষী সাব্যস্ত করে শুক্রবার রায় ঘোষণা করে আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *