বরাক তরঙ্গ, ১০ মার্চ : গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে “আন্ডারস্টেন্ডিং ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেম ” বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালাটি আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর স্টাডিস অন ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেম। মঙ্গলবার কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায়, শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ সহ বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপিকা ও পড়ুয়ারা। কর্মশালায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর অব প্র্যাকটিস এবং সাহিত্য অ্যাকাডেমি কার্য নির্বাহী সদস্য দিগন্ত বিশ্ব শর্মা।
বিশিষ্টজনেরা প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন ড. কেশব লুইটেল। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউজ লেটার এর প্রথম সংস্করণ উন্মোচন হয়। অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় বলেন, ভারতীয় জ্ঞানব্যবস্থা শুধুমাত্র অতীতের ঐতিহ্য নয়, বরং আধুনিক সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি আরো বলেন প্রাচীন ভারতে অর্থনীতি, গণিত এবং প্লাস্টিক সার্জারির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নত জ্ঞান ও গবেষণার নিদর্শন পাওয়া যায়, যা ভারতের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করছে।
দিগন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, জ্ঞানব্যবস্থা মূলত ভারতীয় প্রাচীন গ্রন্থ, ঐতিহ্য এবং দীর্ঘদিনের জ্ঞানচর্চার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সমৃদ্ধ ধারণা। এই জ্ঞানব্যবস্থার মধ্যে দর্শন, বিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র, গণিত, সাহিত্য, শিল্পকলা এবং সমাজচিন্তার মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এই জ্ঞানব্যবস্থা বিকশিত হয়েছে এবং তা আজও শিক্ষাব্যবস্থা ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেমের সময়মাত্রা মূলত তিনটি স্তরে বিস্তৃত, অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ। অতীতের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সমাজকে সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন চিন্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পথ তৈরি করাই এই জ্ঞানব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। এই ধারার মাধ্যমে প্রাচীন জ্ঞানকে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত ও প্রগতিশীল জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বক্তা তাঁর আলোচনায় ইন্ডোলজি শব্দটিরও বিশদ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এই শব্দটি মূলত পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের দ্বারা প্রবর্তিত হয়েছিল। ইন্ডোলজি একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ক্ষেত্র, যার মাধ্যমে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার সমাজ, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা করা হয়। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলের ইতিহাস, ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে চর্চা করা হয়।



