জগন্নাথ সিং কলেজে চা জনজাতির সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে কর্মশালা

বরাক তরঙ্গ, ১৪ নভেম্বর : উধারবন্দ জগন্নাথ সিং কলেজে দু’দিনব্যাপী কর্মশালা শেষ হল। কলেজের বাংলা বিভাগের উদ্যোগে এবং আইকিইউএসি সেলের সহযোগিতায় আয়োজিত দুদিনব্যাপী কর্মশালার বিষয় ছিল “চা জনজাতির সমাজ, সাহিত্য এবং সংস্কৃতি; প্রেক্ষিত এবং অনুশীলন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কর্মশালার দুই রিসোর্স পার্সন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রমাকান্ত দাস ও অধ্যাপক ড. বরুনজ্যোতি চৌধুরীকে উত্তরীয় ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে বরন করেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. এস সমরেন্দ্র সিং ও কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রধান ড. গঙ্গেশ ভট্টাচার্য। কলেজের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্বোধন হয় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে।

কলেজের অধ্যক্ষ ড. এস সমরেন্দ্র সিং এর পৌরহিত্যে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কর্মশালার দুই রিসোর্স পার্সন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রমাকান্ত  দাস ও অধ্যাপক বরুনজ্যোতি চৌধুরী, কলেজের আইকিইউএসি সেলের কো-অর্ডিনেটর ড. মিনহাজ উদ্দিন বড়ভূইয়া, কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. বাসবী পাল সেন, ইতিহাস বিভাগের প্রধান ড. গঙ্গেশ ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নন্দিতা দাস।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ। কর্মশালার বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন ড. মিনহাজ উদ্দিন বড়ভূইয়া। আসাম তথা বরাক উপত্যকার চা জনজাতির ইতিহাস নিয়ে বক্তব্য রাখেন ড. গঙ্গেশ ভট্টাচার্য। তিনি বরাক উপত্যকার চা জনজাতির সমাজ সাহিত্য এবং সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর আয়োজিত হয় বিষয়ভিত্তিক আলোচনাপর্ব। আলোচনার প্রথম পর্বে “চা জনজাতির আচার অনুষ্ঠানে ও লোকসাহিত্যে প্রতিফলিত সমাজজীবন” বিযয়ের উপর   দীর্ঘ সারগর্ভ আলোচনা করেন রিসোর্স পার্সন অধ্যাপক রমাকান্ত দাস। উনবিংশ শতাব্দীতে চা উৎপাদনে সুবিধার জন্য বৃটিশরা কিভাবে ভারতের অন্যান্য স্থান থেকে নিয়ে এসে আসাম তথা বরাক উপত্যকার বিভিন্ন চা-বাগানে চা জনজাতিদের চা-বাগানের কাজে জড়িত করেছিলেন তা ব্যাখ্যা করেন অধ্যাপক দাস। তিনি চা জনজাতির বিভিন্ন আচার – অনুষ্ঠান ও লোকসাহিত্য তাদের সমাজজীবনে কিভাবে প্রতিফলিত হয়েছে তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে “বরাক উপত্যকার চা বাগানের সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি; একটি নিবিড় পাঠ” বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন অধ্যাপক বরুনজ্যোতি চৌধুরী। তিনি বরাক উপত্যকার চা জনজাতি সমাজের সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি ঝুমুর পান্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, পাণ্ডের লেখাতে চা জনজাতির সমাজ, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। কর্মশালার প্রথম দিনের তৃতীয় পর্বে ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উপর আলোকপাত করেন দুই রিসোর্স পার্সন। কর্মশালার দ্বিতীয় দিনের প্রথম পর্বে “চা জনজাতির সংস্কৃতিতে মেয়েলি আচার; প্রসঙ্গ ব্রত পার্বন” বিষয়ের উপর আলোচনা করেন কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. বাসবী পাল সেন। তিনি চা জনজাতির বিভিন্ন পার্বন ও ব্রত পালনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। দ্বিতীয় পর্বে “চা জনজাতির লোকগান; একটি অধ্যয়ন” বিষয়ের উপর আলোচনা করেন কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নন্দিতা দাস।  তিনি চা জনজাতির বিভিন্ন লোকগানের উপর আলোকপাত করেন। তৃতীয় পর্বে ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তাঁরা। কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের শংসাপত্র প্রদান করা হয়। দু’দিনব্যাপী কর্মশালায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *