বরাক তরঙ্গ, ৪ এপ্রিল : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে করিমগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে জোরদার প্রচারে নেমেছে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দল। শনিবার উত্তর করিমগঞ্জ, পাথারকান্দি, দক্ষিণ করিমগঞ্জ ও রামকৃষ্ণনগর বিধানসভা চক্রের একাধিক এলাকায় দলের প্রার্থীদের সমর্থনে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
উত্তর করিমগঞ্জ বিধানসভা চক্রের প্রার্থী অরুণাংশু ভট্টাচার্য-এর সমর্থনে বদরপুর, ভাঙ্গা বাজার ও চরগোলায় পথসভা হয়। সেখানে প্রার্থী ছাড়াও ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সদস্য সুব্রত চৌধুরী এবং জেলা কমিটির সদস্য বিষ্ণু দত্ত পুরকায়স্থ বক্তব্য রাখেন।
পাথারকান্দি কেন্দ্রে প্রার্থী বিজিত কুমার সিনহা-এর সমর্থনে কন্টেকছড়া ও কটামণিতে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন প্রার্থীসহ আসাম রাজ্য কমিটির সদস্য প্রজ্জ্বল দেব, ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সদস্য মলিন দেববর্মা এবং জেলা কমিটির সদস্য বিনয় হালাম।
দক্ষিণ করিমগঞ্জ কেন্দ্রে প্রার্থী রূপশ্রী গোস্বামীর সমর্থনে কালীগঞ্জ বাজার ও বারইগ্রামে পথসভা হয়। এছাড়া রামকৃষ্ণনগর কেন্দ্রে প্রার্থী সঞ্চিতা শুক্ল-এর সমর্থনে কালীবাড়ি বাজার, গামারিয়া বাজার ও চামেলা বাজারে ধারাবাহিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় ডা. অনির্বাণ ভৌমিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উত্তর করিমগঞ্জের সভাগুলিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অরুণাংশু ভট্টাচার্য বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, পেট্রোল-ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে চরম সংকট তৈরি করেছে। পাশাপাশি সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া, শিক্ষক সংকট, স্বাস্থ্য পরিষেবার অবনতি, করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতাল ও রামকৃষ্ণনগর মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামোগত দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা অনুন্নত, রাস্তাঘাট বেহাল এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ অনিয়মিত। কৃষিক্ষেত্রে সেচব্যবস্থার অভাব ও শিল্পের অনুপস্থিতিতে বেকারত্ব বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন। অরুণাংশু ভট্টাচার্যের দাবি, ধনিক শ্রেণীর স্বার্থরক্ষাকারী নীতির ফলে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে। করিমগঞ্জ জেলার নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধেও তিনি গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, সুব্রত চৌধুরী বলেন, অর্থবল ও পেশিশক্তির জোরে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনস্বার্থে নয়, পুঁজিপতিদের স্বার্থে কাজ করছেন। ব্যাংক, বীমা, রেল, বিদ্যুৎ, জল পরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র বেসরকারিকরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সবকটি সভা থেকেই এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) প্রার্থীদের ‘ব্যাটারি টর্চ’ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়ী করে গণআন্দোলনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।



