মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৭ এপ্রিল: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে করিমগঞ্জ জেলার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রেই ব্যাপক জনসংযোগ ও প্রচার চালাচ্ছে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দল। বিভিন্ন এলাকায় পথসভা, গ্রুপ মিটিং ও প্রচার কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন দলের প্রার্থী ও কর্মীরা।
পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রে দলের প্রার্থী বিজিত কুমার সিনহার সমর্থনে কাঁঠালতলী ও লোয়াইরপোয়া এলাকায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। লোয়াইরপোয়ায় সভা চলাকালীন বিজেপির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান দলের রাজ্য কমিটির সদস্য প্রজ্বল দেব। পরে কাঁঠালতলীতে বিকেলে আয়োজিত সভায় তিনি মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ মাশুল ও বিভিন্ন পরিষেবার খরচ বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেন।

প্রজ্বল দেব অভিযোগ করেন, করিমগঞ্জ জেলার সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও পরিকাঠামোর অভাব প্রকট। গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবা অনুন্নত এবং করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতাল ও রামকৃষ্ণনগর মেডিকেল কলেজের পরিষেবা সন্তোষজনক নয়। সামান্য গুরুতর অসুখেও রোগীদের বাইরে রেফার করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি রাস্তার বেহাল দশা, অনিয়মিত পানীয় জল সরবরাহ ও বেকার সমস্যার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার ধনিক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি করছে। এই পরিস্থিতিতে দলের প্রার্থীকে ‘ব্যাটারি টর্চ’ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণআন্দোলনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। দক্ষিণ করিমগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে দলের প্রার্থী রূপশ্রী গোস্বামী লাতু, ফকিরাবাজার ও বটরশি এলাকায় প্রচার চালান এবং বিভিন্ন স্থানে সভা করে জনসমর্থন চান।

অন্যদিকে, রামকৃষ্ণনগর কেন্দ্রে প্রার্থী সঞ্চিতা শুক্লের সমর্থনে কাজিরবাজার ও এস বি আই পয়েন্টে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ডাঃ অনির্বাণ ভৌমিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সঞ্চিতা শুক্ল অভিযোগ করেন, মূল্যবৃদ্ধি ও কর বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।
উত্তর করিমগঞ্জ কেন্দ্রে প্রার্থী অরুণাংশু ভট্টাচার্য শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক প্রচার চালান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সদস্য সুব্রত চক্রবর্তী। প্রচারে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে দাবি দলের।
এদিকে, অরুণাংশু ভট্টাচার্য এক প্রেস বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক অনুমতি থাকা সত্ত্বেও লোয়াইরপোয়ায় পথসভায় বাধা দেওয়া গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। তিনি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি দোষীদের শাস্তির দাবিও করেন এবং জেলার সচেতন নাগরিকদের এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।



