উধারবন্দে বিজেপি মণ্ডল কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ, রাস্তা সংস্কারের দাবিতে উত্তেজনা

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১ মার্চ : উধারবন্দ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত উধারবন্দ মণ্ডল বিজেপি কার্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে জেসি গার্লস হাইস্কুল রোডের প্রায় ৩০০ মিটার কাঁচা গলি পথ সংস্কারের দাবিতে স্থানীয়দের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি সরকারের আমলে রাস্তার ব্যাপক উন্নয়ন হলেও উধারবন্দের জেসি গার্লস হাইস্কুল রোডের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বারবার স্থানীয় বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানানো হলেও সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। অথচ ওই এলাকাতেই বিজেপির মণ্ডল কার্যালয় অবস্থিত এবং বিধায়ক, সাংসদসহ দলীয় নেতারা নিয়মিত যাতায়াত করেন। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রবিবার সকালে বিজেপি কার্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানান।

বিজেপি কার্যালয়ে তালা ঝোলানোর ঘটনায় স্থানীয় যুবক রাজেশ নন্দীর বিরুদ্ধে উধারবন্দ বিজেপি মণ্ডলের পক্ষ থেকে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ রাজেশ নন্দীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে তার সমর্থনে বহু স্থানীয় বাসিন্দা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে থানায় উপস্থিত হন এবং জানান, জনস্বার্থে আওয়াজ তোলার জন্য রাজেশের পাশে তারা রয়েছেন। রাজেশের মুক্তির দাবিতে থানার সামনে বহু মানুষ জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন করা হয় সিআরপিএফ বাহিনী।

এদিন বিজেপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে রাজেশ নন্দী, দেবা চক্রবর্তী, মঞ্জু ভট্টাচার্য ও মুন দাসসহ অন্যান্য বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, লোকনাথ মন্দির থেকে নবগ্রহ মন্দির পর্যন্ত গার্লস স্কুল রোডের প্রায় ৩০০ মিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। বর্ষাকালে এই রাস্তায় চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। বহুবার জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা বিজেপি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে ভোট বয়কটের কথাও ভাবছেন বলে জানান বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে, উধারবন্দের বিধায়ক মিহিরকান্তি সোম বিজেপি কার্যালয়ে তালা ঝোলানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেননি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপি সংগঠনের প্রতি জনরোষ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং বর্তমান মণ্ডল নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *