সংঘর্ষে নিহত শীর্ষ মাওবাদী নেত্রী

Spread the news

১৩ এপ্রিল : ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে মাওবাদী দমন অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে যৌথবাহিনী। কাঙ্কের জেলার ঘন জঙ্গলে এক তীব্র সংঘর্ষে নিহত হয়েছে মাওবাদী সংগঠনের শীর্ষ নেত্রী তথা এরিয়া কমিটি সদস্য (ACM) রুপি। অভিযানের পর পুলিশ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—অস্ত্র না ছাড়লে বাকি মাওবাদীদেরও একই পরিণতি হতে পারে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাঙ্কের জেলার ছোটবেঠিয়া-প্রতাপপুর থানা এলাকার মচপল্লী-অরামঝোরা-হিড়ুর জঙ্গল এলাকায় সশস্ত্র মাওবাদীদের উপস্থিতির খবর পায় যৌথবাহিনী। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল তল্লাশি অভিযান শুরু করে। মচপল্লী এলাকায় পৌঁছতেই জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা মাওবাদীরা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পাল্টা জবাব দেয় নিরাপত্তা বাহিনীও। দীর্ঘক্ষণ গুলির লড়াইয়ের পর তল্লাশি চালিয়ে এক মহিলা মাওবাদীর দেহ উদ্ধার করা হয়, যাকে পরে শনাক্ত করে কুখ্যাত নেত্রী রুপি বলে জানা যায়।

জানা গেছে, রুপি মাওবাদী সংগঠনের একজন প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। তিনি দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির (DKSZC) নেতা বিজয় রেড্ডির স্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে মানপুর-মহলা জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন বিজয়। রুপি বস্তার অঞ্চলে সক্রিয় তেলুগু বংশোদ্ভূত শেষ কয়েকজন মাওবাদী ক্যাডারের অন্যতম ছিলেন। বারবার আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি সশস্ত্র পথই বেছে নিয়েছিলেন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, প্রচুর কার্তুজ এবং মাওবাদী সংক্রান্ত নথিপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। কাঙ্কের জেলার পুলিশ সুপার নিখিল রাখেচা জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান সফল হয়েছে। অন্যদিকে, বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পত্তিলিঙ্গম কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “সরকার বারবার মাওবাদীদের মূলস্রোতে ফেরার সুযোগ দিচ্ছে। অনেকে সেই সুযোগ নিয়ে স্বাভাবিক জীবন বেছে নিয়েছেন। কিন্তু যারা এখনও হিংসার পথেই অটল, তাদের পরিণতিও একই হবে।” তিনি আরও জানান, ওই এলাকায় এখন মাত্র ১০-১২ জন মাওবাদী সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *