সীমান্তে তিন ভারতীয় নিহত, প্রেস বিবৃতিতে সিএনএ-পিডিএ’র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তদন্তের দাবি

Spread the news

রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ৭ এপ্রিল : ভারত-মায়ান্মার আন্তর্জাতিক সীমান্তে তিন ভারতীয় বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৬ এপ্রিল ‘বিহাইন্ড দ্য ট্রুথ’ নামে ওয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে প্রকাশিত একটি প্রেস বিবৃতিতে এই ঘটনাকে “নৃশংস ও অমানবিক” আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এবং দ্রুত তদন্তের দাবি তোলে হয় সেখানের একটি সংগঠন। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, মায়ান্মারের চিন রাজ্যের টনজাং–তেডিম জেলার আনলাংহ ব্রিজ এলাকায় চিন ন্যাশনাল আর্মি এবং পিপলস ডিফেন্স আর্মি-র সদস্যরা যৌথভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনাটিকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার জাহাঙ্গীর মির্জা (২৩) ও আরাউফিক খান (২৪), এবং কাছাড় জেলার ধলাই এলাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেন মজুমদার (২১)। প্রেস বিবৃতি উল্লেখ রয়েছে, জীবিকার উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় আনলাংহ ব্রিজের একটি পিডিএ-সিএনএ চেকপোস্টে তাঁদের ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়। পরে তাঁদের গেলজাং এলাকার একটি ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ঘটনার কয়েকদিন পর জেডআরএ-ইসি সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পটি দখল করে এবং সেখান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে এই বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি ও ভিডিও ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ওই ছবিতে মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন, গুলির দাগ ও পোড়ার চিহ্ন দেখা গেছে এবং তাঁরা সেগুলির ভিত্তিতে দেহ শনাক্ত করেছেন।

প্রেস বিবৃতিতে সিএনএ ও পিডিএ কর্তৃক জেডআরএ-ইসি-র বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মার্চ তাঁরা ব্যবসায়িক কাজে মিজোরামের চাম্পাই জেলার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ১৮ মার্চ পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা হোক। সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয় জড়িত থাকায় ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে এবং প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *