বরাক তরঙ্গ, ৩ ফেব্রুয়ারি : প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বন্যপ্রাণীর অপার সমৃদ্ধিতে ভরপুর বড়াইল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যকে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার জন্য ট্রেকিং উৎসাহী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা জোরালো দাবি তুলেছেন। দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে অভয়ারণ্যটি পর্যটকদের কাছে অপ্রতুল অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ করে তাঁরা সঠিক উন্নয়নের মাধ্যমে এর অঢেল সম্ভাবনা জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়েছেন।নপ্রায় ৩২৬ বর্গকিলোমিটার কোর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই অভয়ারণ্যে গিবন, বন্য ছাগল সহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী, ডলু জলপ্রপাতসহ একাধিক প্রাকৃতিক জলপ্রপাত এবং মাঝারি কঠিন ট্রেকিং রুট রয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট প্রবেশপথ, সাফারি জোন, ক্যাম্পসাইট বা অন্যান্য পরিকাঠামোর অভাবে এর সম্পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অসম মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও ইনচার্জ সভাপতি মৃগাঙ্ক শর্মা বলেন, “বড়াইলে ট্রেকিং ও হাইকিংয়ের জন্য আদর্শ পরিবেশ রয়েছে। ২০২২ ও ২০২৩ সালের অভিযানে দেখা গেছে, মাঝারি কঠিন পথগুলো অত্যন্ত উপভোগ্য। ট্রেকিং রুট থেকে ডলু জলপ্রপাতসহ একাধিক প্রাকৃতিক জলপ্রপাত দৃশ্যমান হয়।” মৃগাঙ্ক শর্মা আরও প্রশ্ন তুলে বলেন, “এত সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কেন উন্নয়ন হয়নি? সঠিক পরিকল্পনায় ক্যাম্প, ট্রেকিং রুট ও অবসরকেন্দ্রিক কার্যক্রম চালু করলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, বড়াইলের বাঁশ বিশ্বমানের এবং এর থেকে উচ্চমানের বাঁশি তৈরি হয় যা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি হয়। বাঁশভিত্তিক শিল্পের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০২২ সাল থেকে গুয়াহাটি থেকে অভয়ারণ্য পর্যন্ত আইআরসিটিসি ভিস্তাডোম ট্রেন চালুর দাবিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। একইভাবে, প্রাক্তন এনসিসি ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পুলক নাথ জানান, “অসম ও আগরতলার দলগুলোর সহযোগিতায় ট্রেকিং সফল হয়েছে। যথাযথ সহায়তা পেলে বরাইলের সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হবে।” উভয় বক্তাই জোর দিয়ে বলেন, সংরক্ষণ ও সম্প্রদায়ের কল্যাণ রক্ষায় পরিকল্পিত উন্নয়ন জরুরি। আগামী ট্রেকিং এক্সপেডিশন এই মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ‘আরোহণ ২.০’ নামে বড়াইল ট্রেকিং এক্সপেডিশন অনুষ্ঠিত হবে। অংশগ্রহণের আগ্রহীদের যোগাযোগ করতে পারেন ৯১০১৯৪৪০২৮ বা ৬৯০০২৫৮৫৮২ নম্বরে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অভয়ারণ্যের সম্ভাবনা আরও প্রচারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



