ফ্রিজে জেঠিমার দেহ রেখে বিয়ে! অমানবিক কাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য

৪ ফেব্রুয়ারি : ফ্রিজে রাখা জেঠিমার মৃতদেহ! এই অবস্থাতেই বিয়ে সারলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের চাঁইপাট বেলডাঙা গ্রামের এক যুবক। যা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয় গ্রামের বাসিন্দা রিতা আলুর। মঙ্গলবারই ছিল পরিবারেরই এক সদস্য সরোজ আলুর ছেলে সৌরেন আলুর বিয়ে।

সম্পর্কের দিক থেকে রিতা ছিলেন সৌরেনের জ্যেঠিমা। পরিবারের দাবি, মৃত রিতার ছয় মেয়ে সকলেই বাইরে থাকেন। তাঁদের আসতে সময় লাগবে বলেই মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে এলাকার একটি ক্লাবঘরের ফ্রিজে রাখা হয় দেহ।

এদিকে, জ্যেঠিমার মৃতদেহ ফ্রিজে রেখে বিয়েতে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শুরু হয় গুঞ্জন ও শোরগোল। অনেকেই ঘটনাটিকে ‘অমানবিক’ বলে কটাক্ষ করেন। তবে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, পরিস্থিতির চাপে এবং সামাজিক বাধ্যবাধকতার কারণেই ‘বুকে পাথর চাপা’ দিয়ে বিয়ের আয়োজন করতে হয়েছে। পরিবারের দাবি, আনন্দ নয়, গভীর শোকের আবহেই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

মৃতদেহ ক্লাবঘরে রাখাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ক্লাবের এক সদস্য জানান, এইভাবে কোনও অনুষ্ঠান বাড়ির সঙ্গে যুক্ত জায়গায় মৃতদেহ রাখা যায় না এবং অবিলম্বে তা সরিয়ে নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, বিষয়টি ইতিমধ্যেই থানাকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, রিতার পরিবার ও আত্মীয়দের বক্তব্য, মঙ্গলবার বিয়েবাড়ির প্রীতিভোজ রয়েছে। বুধবার মৃতের মেয়েরা গ্রামে পৌঁছনোর পরই দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *