বরাক তরঙ্গ, ২২ জানুয়ারি : কাছাড় জেলায় রাজ্য সরকারের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের সাক্ষী থাকল শিলচর। বৃহস্পতিবার শিলচরের বঙ্গ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর নববর্ষের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে সরকারি স্বীকৃত সাংবাদিকদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অসম সরকারের আরোহন প্রকল্পের অধীনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ট্যাবলেট পিসি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশদ ও তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণে খাদ্য, গণবণ্টন ও ভোক্তা বিষয়ক, খনি ও খনিজ এবং বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৌশিক রায় মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে একজন দূরদর্শী, কর্মনিষ্ঠ ও গতিশীল নেতা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ২০২১ সাল থেকে নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী অসমকে দেশের শীর্ষ পাঁচ রাজ্যের মধ্যে স্থান করে দেওয়ার লক্ষ্যে দৃঢ় সংকল্পে এগিয়ে চলেছেন। কেবল রাস্তা, সেতু, হাসপাতাল কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো দৃশ্যমান পরিকাঠামো নির্মাণ নয়, মানুষের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নই বর্তমান সরকারের মূল দর্শন।
মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসংস্কৃতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী কৌশিক রায় জানান, রাজ্যের সামগ্রিক অগ্রগতির স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিদিন গড়ে ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ওয়ার্ল্ড ইকনমিক সামিটে মুখ্যমন্ত্রীর অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজ অসম আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। এর ফলে রাজ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই যুগ্ম উদ্যোগকে রাজ্য সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন দর্শনের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী রায় বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সংবাদমাধ্যম—এই তিনটি স্তম্ভকে প্রযুক্তিনির্ভর সহায়তার মাধ্যমে শক্তিশালী করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ১০ জন সরকারি স্বীকৃত সাংবাদিকের হাতে মুখ্যমন্ত্রীর নববর্ষের শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে কাছাড় জেলার মোট ৮৮ জন সরকারি স্বীকৃত সাংবাদিক মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নববর্ষের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে মোবাইল ফোন গ্রহণ করেন। গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

একইসঙ্গে, সমগ্র শিক্ষা, কাছাড় জেলার উদ্যোগে আরোহন প্রকল্পের অধীনে ট্যাবলেট বিতরণ অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৭০টি ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি তৃণমূল স্তরে ডিজিটাল শিক্ষা, মেন্টরিং ও একাডেমিক নজরদারি আরও জোরদার করতে ১৮২টি ট্যাবলেট ক্লাস্টার রিসোর্স সেন্টার কো-অর্ডিনেটরদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাছাড়ের জেলা আয়ুক্ত আয়ুষ গর্গ, আইএএস। তিনি ইন্টারনেট-পূর্ব যুগে নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তির যে সুযোগ পাচ্ছে, তা যথাযথভাবে কাজে লাগালে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গঠনে তা বিশেষ সহায়ক হবে। আরোহন প্রকল্পের অধীনে প্রাপ্ত ট্যাবলেট দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

এর আগে স্বাগত ভাষণে অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত (শিক্ষা) মনজ্যোতি কুটুম, এসিএস, আরোহন প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কাঠামোবদ্ধ একাডেমিক সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেন্টরিং ব্যবস্থার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দীপা দাস, এসিএস, সহকারী আয়ুক্ত তথা ভারপ্রাপ্ত উপ-সঞ্চালক, তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের আঞ্চলিক কার্যালয়, শিলচর; বহ্নিখা চেতিয়া, এসিএস, সহকারী আয়ুক্ত তথা ভারপ্রাপ্ত জেলা মিশন কো-অর্ডিনেটর; জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকবৃন্দ এবং কাছাড় জেলার সরকারি স্বীকৃত সাংবাদিকরা।



