মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ধলাইয়ে বিদ্রোহ থামল, সিদ্ধান্ত বদল নীহার

Spread the news

রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ,২২ মার্চ : আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ধলাই কেন্দ্রকে ঘিরে চলা রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে না লড়ার সিদ্ধান্ত জানালেন বর্তমান বিধায়ক নীহাররঞ্জন দাস। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং দলীয় নেতৃত্বের অনুরোধের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নীহাররঞ্জন দাস বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস এবং দলীয় কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই তিনি নির্দল প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি ইতিমধ্যেই ভারতীয় জনতা পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদে দেওয়া ইস্তফা প্রত্যাহার করেছেন এবং আগামীকাল থেকেই দলের হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

এর আগে, টিকিট না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেন এবং ২৩ মার্চ মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথাও জানান। এই ঘোষণার পর থেকেই ধলাইয়ের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়। শনিবার তাঁর পানিভরা এলাকার তার ভাড়া করে   পৌঁছান রাজ্যের মন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বড়ুয়া, বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৌশিক রায় এবং বিজেপির অসম প্রদেশ সহ-প্রভারী সুনীল শর্মা। সেখানে প্রায় একান্ত বৈঠকে তাঁরা বিধায়কের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। বৈঠকের সময় মুখ্যমন্ত্রীও ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন বলে জানান বিধায়ক।

বৈঠকের পর নীহাররঞ্জন দাস ২৪ ঘণ্টার সময় চান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রবিবার তিনি দলীয় মণ্ডল সভাপতি ও কর্মীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন।

উল্লেখ্য, ধলাই আসনে ভারতীয় জনতা পার্টি প্রার্থী করেছে অমিয় কান্তি দাস-কে। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নীহাররঞ্জন দাসের সম্ভাব্য লড়াই দলীয় সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারত বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল।

প্রসঙ্গত, সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য শিলচর লোকসভা আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর শূন্য হওয়া ধলাই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে প্রায় ৯ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হন নীহাররঞ্জন দাস। স্বল্প সময়ে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ এবং জনসংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়লে তাঁর জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় নেতৃত্বের সক্রিয় হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহ ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও সম্ভাব্য পুনর্বাসন নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *