বরাক তরঙ্গ, ১১ জানুয়ারি : সাইরাঙে রেল পৌছা মাত্র মিজোরামে ইনার পারমিটের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ভৈরবি–সাইরাং রেললাইন উদ্বোধনের পর থেকে মিজোরামের সাইরাং রেলওয়ে স্টেশনে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে ২২ হাজারেরও বেশি ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) ইস্যু করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আইএলপি হলো একটি সরকারি ভ্রমণ নথি, যা ভারতীয় নাগরিকদের মিজোরামসহ বিভিন্ন সংরক্ষিত অঞ্চলে প্রবেশের জন্য প্রদান করা হয়।
এই ব্যবস্থা ১৮৭৩ সালের বেঙ্গল ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রেগুলেশন (বিইএফআর)-এর আওতাভুক্ত, যা ১৮৭৫ সালে ব্রিটিশ সরকার দ্বারা প্রজ্ঞাপিত হয়। সাইরাং স্টেশনের আইএলপি কাউন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রেললাইন উদ্বোধনের পর ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে গত বছরের শেষ পর্যন্ত পর্যটক, ব্যবসায়ী ও পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে মোট ২০,৯১৪টি আইএলপি ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের ১ থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে আরও ১,৫১৭টি আইএলপি প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে মোট ইস্যুকৃত আইএলপির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২,৪৩১।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিবার ট্রেন আসার সময় গড়ে প্রায় ১০০ থেকে ২০০টি আইএলপি ইস্যু করা হয়। সাধারণত প্রতিদিন দু’টি ট্রেন স্টেশনে আসে।” তিনি জানান, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আগতদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন পর্যটক, আর ডিসেম্বর মাসে মূলত পরিযায়ী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বেশি ছিল।
পুলিশের মতে, কিছু ক্ষেত্রে নিয়মভঙ্গকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে, যারা স্টেশন থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। এছাড়াও ভিক্ষুকদের শনাক্ত করে সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের নিজ নিজ গ্রামে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দর্শনার্থীরা দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যসহ নানা প্রান্ত থেকে আসেন। তবে সর্বাধিক সংখ্যক আগমন ঘটেছে পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসম থেকে।
পুলিশ স্বীকার করেছে যে তারা তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আইএলপি যাচাইয়ের পাশাপাশি সরকারী রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)-এর দায়িত্বও তাদের পালন করতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, “যদিও জিআরপি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি, তবুও আমরা তাদের দায়িত্ব পালন করছি—যার মধ্যে ট্রাফিক ও পার্কিং নিয়ন্ত্রণও রয়েছে। একসঙ্গে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ যাত্রী এলে জনবল সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।”
বর্তমানে স্টেশনে ২০ জন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ট্রেন দেরিতে এলে অনেক সময় তাঁদের রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করতে হয় এবং সকাল ৭টা থেকে আবার দায়িত্ব শুরু করতে হয়। জিআরপির কাজ করার জন্য তাঁরা কোনও অতিরিক্ত ভাতা পান না বলেও ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন।



