বরাক তরঙ্গ, ২৪ ফেব্রুয়ারি : ফেডারেশন অব সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিজ স্টাফ (ফোকাস)-এর জাতীয় সম্পাদক পদে মনোনীত হলেন দেবাশিস চক্রবর্তী। তিনি বর্তমানে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় অশিক্ষক কর্মচারী সংস্থার (আনটিয়া) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার তিনি সর্বভারতীয় স্তরে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষাকর্মীদের স্বার্থরক্ষায় নেতৃত্ব দেবেন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য তাঁকে ফোকাসের জাতীয় সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সম্প্রতি নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ফোকাসের জাতীয় বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর কাঁধে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গৃহীত এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
দেবাশিস চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাকর্মীদের ন্যায্য অধিকার, কর্মসংস্কৃতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর সংগঠনিক দক্ষতা ও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গির স্বীকৃতিস্বরূপ এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন সহকর্মীরা। এই মনোনয়নের খবর প্রকাশ্যে আসতেই আসাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। উপাচার্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মচারীরা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার আনটিয়ার পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সংবর্ধনা সভারও আয়োজন করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেবাশিস চক্রবর্তীর পাশাপাশি ফোকাসের নির্বাহী সদস্য হিসেবে মনোনীত হওয়ায় আনটিয়ার সহকারী কোষাধ্যক্ষ কানু ধরকেও উষ্ণ সংবর্ধনা জানানো হয়। এতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিভিন্ন বক্তা আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা—যেমন পদোন্নতি নীতি, বেতন কাঠামো, শূন্যপদ পূরণ এবং কর্মচারীদের সুরক্ষা সংক্রান্ত ইস্যু—সমাধানে দেবাশিস নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবেন।

বক্তারা এও বলেন, দেবাশিস চক্রবর্তী ও কানু ধরের এই দায়িত্বপ্রাপ্তি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আনটিয়া তথা আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও গর্বের বিষয়। তাঁদের নেতৃত্বে ফোকাস আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন সবাই। এদিন বক্তব্য রাখেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সুপ্রবীর দত্তরায়, বিত্ত আধিকারিক শুভদীপ ধর, প্রাক্তন সভাপতি সাগ্নিক চৌধুরী, রণেন্দ্র চক্রবর্তী, অনুপকুমার ভার্মা, সুচরিতা রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কিংকর পুরকায়স্থ ও শেষে ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন রঞ্জিত দাস।



