বহু প্রতীক্ষিত শ্রীশ্রী নর্মদেশ্বর শিবলিঙ্গ মন্দির প্রতিষ্ঠা হল প্রণবানন্দ লেনে

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩ এপ্রিল : এক ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী থাকলো শিলচর পুরনিগম অধীনস্ত প্রণবানন্দ লেন। বহু প্রতীক্ষিত নর্মদেশ্বর শিবলিঙ্গ মন্দির প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবায়নে রূপ নিল। বুধবার সন্ধ্যায় অধিবাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট লেনের শিবমন্দির প্রতিষ্ঠার সূচনা হলেও বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে মন্দির প্রতিষ্ঠার ক্রিয়াবিধি শুরু হয়। শ্রীশ্রী মহাদেবের রুদ্রাভিষেক পুজাচ্চর্ণার মাধ্যমে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়। এদিন শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন পণ্ডিত অনন্ত বিজয় ভট্টাচার্য। অন্যান্য পুরোহিতদের মধ্যে ছিলেন অসীমানন্দ ভট্টাচার্য, সঞ্জয় চক্রবর্তী, গজেন্দ্র লাল ভট্টাচার্য, দেবাশিস চক্রবর্তী সায়ন এবং শান্ত ভট্টাচার্য। পরে হোমের মাধ্যমে রুদ্রাভিষেক পুজা সম্পন্ন হয়। দুপুর দেড়টা থেকে অগণিত ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয় মহাপ্রসাদ। সন্ধ্যায় আরতির পর রাতে অনুষ্ঠিত ত্রিনাথের গাজন কীর্তনের আসর। রাত বারোটা নাগাদ লুটের মাধ্যমে এদিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

এ দিকে, বুধবার লেনের প্রায় ত্রিরিশের উপরে মহিলারা মঙ্গলঘটে করে অধিবাসের জল এনে শিবলিঙ্গে জল অর্পন করেন। পরে অনুষ্ঠিত হয় সম্মাননা অনুষ্ঠান। এদিন শিবলিঙ্গ ও মন্দির প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পদ্ধতি সহ এই মাঙ্গলিক ক্রিয়াকার্যে সহযোগীতা প্রদানে পণ্ডিত অনন্ত বিজয় ভট্টাচার্যকে প্রণবানন্দ লেন পুজা কমিটির তরফে উত্তরীয় পরিয়ে ও শুভেচ্ছা স্মারক হাতে দিয়ে বরণ করেন প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্য। পাশাপাশি সম্মননা প্রদান করা হয় প্রণবানন্দ লেনে দীর্ঘ বছর থেকে দুর্গাপূজা, কালীপূজা সহ বিভিন্ন পূজাচ্চর্ণায় নিরলস সহযোগীতা প্রদানে পুরোহিত সঞ্জয় চক্রবর্তীকে। এছাড়াও সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয় বিভিন্ন সময়ে প্রণবানন্দ লেনের বিভিন্ন পূজা পরিচালনায় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তথা সমাজসেবী মুনমুন সাহা এবং শিলচর মারুতি নেক্সার আধিকারিক বিপ্লব দে’কে। এদিনের অনুষ্ঠানে মুনমুন সাহা ও বিপ্লব দে অনুপস্থিত থাকায় তাঁদের সম্মাননা কমিটির তরফে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তুলে দেওয়া হবে বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, আগামী বছর প্রথমবারের মতো সংশ্লিষ্ট শিবমন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে মহা শিবরাত্রি উৎসব। পাশাপাশি চলিত বছরের শ্রাবণ মাসে মহাদেবের জন্মমাসে প্রতি সোমবার পালিত হবে শ্রাবণী সোম কার্যক্রম। অনুষ্ঠানে ভক্তরা এসে পূজাচ্চর্ণা, জল অর্পণ করতে পারবেন বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। পাশাপাশি এও জানান কমিটির কর্মকর্তারা মন্দিরে কোনো ভক্ত কোনো কিছু দান বা সহযোগীতা করতে চাইলে তা কমিটিকে অবগত করতে এবং সেই সহযোগীতা শ্রদ্ধা সহকারে গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *