নারী শিক্ষাশ্রম হাসপাতালে চিকিৎসকের গাফিলতিতে প্রাণ গেল শিশুর, অভিযোগ পরিবারের

বিশ্বজিৎ আচার্য, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৩ ফেব্রুয়ারি : শিলচরের শিব সুন্দরী নারী শিক্ষাশ্রম হাসপাতালে চিকিৎসকদের গাফিলতি এবং নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে প্রাণ গেল এক নবজাতকের। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৃত শিশুর পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার দুপুরে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি ছিলেন বরিষ্ঠ চিকিৎসক পিনাকপাণি দত্তের তত্ত্বাবধানে। পরিবারের অভিযোগ, সোমবার দুপুর বারোটা নাগাদ রোগীকে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা জানান তার শরীরে রক্তের ঘাটতি রয়েছে এবং এক ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হবে। বিকেল চারটার মধ্যেই পরিবার রক্তের ব্যবস্থা করলেও তা রোগীর শরীরে দেওয়া হয় রাত সাতটার দিকে।

ভোর তিনটে নাগাদ মহিলার প্রসববেদনা শুরু হলেও তখন কোনও চিকিৎসক তাকে দেখতে আসেননি বলে অভিযোগ। সকালে ‘আপ্পি’ নামে এক চিকিৎসক হাসপাতালে এসে তড়িঘড়ি অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেন। অপারেশনের পর পরিবারকে জানানো হয়, শিশুটি মারা গেছে এবং কোনওরকমে মাকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে চিকিৎসকদের বক্তব্য, রোগীর অবস্থা আগেই অত্যন্ত সংকটজনক ছিল। চিকিৎসকদের দাবি, মহিলার আগে দু’বার সিজারিয়ান অপারেশন হওয়ায় জরায়ু ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই কারণে মাকে বাঁচাতে গিয়ে শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

চিকিৎসক আপ্পি জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে অপারেশনের কথা জানানো হয়। তিনি দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে সহকারী চিকিৎসকের অভাব সত্ত্বেও অস্ত্রোপচার শুরু করেন।

অন্য চিকিৎসক অর্ঘ্যজ্যোতি সাহা জানান, রোগী ৩০ জানুয়ারি প্রথমবার হাসপাতালে এসেছিলেন এবং তখনই তাকে রক্তস্বল্পতার কথা জানানো হয়। তিনি বলেন, “দু’দিন পর অর্থাৎ সোমবার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। নানা জটিলতার মধ্যেও মাকে বাঁচানো গেছে, তবে শিশুকে বাঁচাতে গেলে মায়ের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যেত।”

পরিবারের অভিযোগ, পিনাকপাণি দত্তের মতো বরিষ্ঠ চিকিৎসক বিষয়টিকে অত্যন্ত হালকাভাবে নিয়েছেন, যার ফলেই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের দাবি, প্রায় এক মাস ধরে চিকিৎসকের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না এবং বারবার বলা হয়েছে তিনি বিদেশে রয়েছেন। পরিবারের প্রশ্ন, রোগীর অবস্থা এতটা গুরুতর হলে তাদের আগে থেকে কেন জানানো হয়নি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *