দুর্ঘটনার ১২ ঘণ্টা পর আত্মসমর্পণ ১০৮ এর চালকের, মদ্যপ ছিলেন অভিযোগ

বরাক তরঙ্গ, ২৪ জানুয়ারি : প্রতিদিন হাজার মানুষের প্রাণরক্ষা করা ১০৮ অ্যাম্বুলেন্সই সরস্বতী পূজার দিনে বঙাইগাঁয়ের লুনা ভরদ্বাজের প্রাণ কেড়ে নিল। কিন্তু ঘটনার ১২ ঘণ্টা পরে আত্মসমর্পণ করে লুনার প্রাণনাশের পাশাপাশি তিনটি যানবাহন ধাক্কা দিয়ে উল্টে দেওয়া ১০৮ অ্যাম্বুলেন্সটির চালক রেকিবুদ্দিন। তবে প্রশ্ন উঠেছে—চালকের মদ্যপান নাকি GVK EMRI কর্তৃপক্ষের ত্রুটির কারণে একসঙ্গে তিনটি পরিবারে নেমে এলো কালো অন্ধকার? কার ভুলে হারিয়ে গেল সম্ভাবনাময় লুনা ভরদ্বাজের জীবন?

রহস্যজনকভাবে ঘটনার ১২ ঘণ্টা পর রঙিয়া থানায় আত্মসমর্পণ করেন চালক রেকিবুদ্দিন আহমদ। অন্যদিকে, লুনার নিথর দেহ পৌঁছে যায় বঙাইগাঁয়ের বাড়িতে। সরস্বতী পূজার আনন্দের মাঝেই কাহিলীপাড়ায় সংঘটিত ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৬ বছর বয়সী লুনা। মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শোকের ছায়া নেমে আসে বঙাইগাঁয়ের উত্তর শালমারার বাড়িতে। মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন মা।

দেড়গাঁওয়ের লুনা বন্ধু অচ্যুৎ কৃষ্ণ বরুয়ার সঙ্গে একই স্কুটিতে নতুন চাকরির কিছু কাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। সেই সময়েই ঘাতক ১০৮ অ্যাম্বুলেন্সটির সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যায় চালক রেকিবুদ্দিন আহমদ এবং ১২ ঘণ্টা পরে শনিবার আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। রঙিয়া থানায় আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর অভিযোগ ওঠে, রেকিবুদ্দিন মদ্যপ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স চালাচ্ছিলেন। কিন্তু আত্মসমর্পণের আগে দেওয়া বিস্ফোরক বক্তব্যে রেকিবুদ্দিন দাবি করেন, অ্যাম্বুলেন্সটি সম্পূর্ণভাবে বিকল ছিল। ব্রেক না থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে তিনি জানান। কার্যত তিনি পুরো দায় GVK EMRI কর্তৃপক্ষের ওপর চাপিয়েছেন। ১০৮ কর্মচারী সংগঠনও ঘটনার সম্পূর্ণ দোষ GVK EMRI-র ওপর চাপিয়েছে।

একটি কল রেকর্ডিংয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক ভয়াবহ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১০৮ অ্যাম্বুলেন্সটির কোনও ব্রেক ছিল না। মেরামতের জন্যই নাকি গাড়িটি আনা হয়েছিল। অন্যদিকে অভিযোগ অনুযায়ী, নিহত যুবতী হেলমেট পরেননি। আরও অভিযোগ, অনভিজ্ঞ চালকের মাধ্যমে ১০৮ পরিষেবা পরিচালনার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘাতক ১০৮ অ্যাম্বুলেন্সটি শুধু লুনাদের স্কুটিকেই ধাক্কা দেয়নি, সর্বশিক্ষা অভিযানের সামনের পাহাড় থেকে নামার সময় আরও তিনটি যানবাহনকেও ধাক্কা দেয়। লুনার বন্ধু অচ্যুৎ বরুয়ার পাশাপাশি GMCH-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন AS01BG6313 নম্বর স্কুটির আরোহী শম্ভু শর্মা। বর্তমানে GMCH-এর ICU-তে চিকিৎসাধীন অচ্যুৎ বরুয়া। পরিবারের সদস্যদের মতে, বর্তমানে অচ্যুৎ বিপদমুক্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *