১৫ জানুয়ারি : নব্বইয়ের দশকে বাঙালির মহালয়ার ভোরে টিভির পর্দা গমগম করত তাঁর অট্টহাসি আর বলিষ্ঠ চেহারায়। দেবী দুর্গার দাপটকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতেন তিনি, সেই মানুষটিই নিঃশব্দে বিদায় নিলেন পৃথিবী থেকে। দূরদর্শনের মহালয়ায় ‘অসুর’ হিসেবে অমর হয়ে থাকা প্রবীণ অভিনেতা অমল চৌধুরীর মৃত্যুর খবরে পৌষ সংক্রান্তির দিন মনভার সকলের।
বুধবার তাঁর বাড়ির তালা ভেঙে উদ্ধার করা হয় অভিনেতার নিথর দেহ।
অশোকনগরের সিংহি পার্ক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন অমলবাবু। সকলে তাঁকে অমল অসুর নামেই চিনত। বিয়ে করেননি। জীবনপথে একে একে বাবা-মা, দাদা-দিদিদের হারিয়ে শেষ কয়েক বছর একাই থাকতেন। অসুস্থতা ছিল নিত্যসঙ্গী। খেতে পেতেন না ঠিক করে। অভাব-অনটন জাঁকিয়ে বসেছিল। এদিন সকাল থেকে প্রতিবেশিরা সাড়াশব্দ পাননি অভিনেতার। হাঁকডাক করেও কাজ না হওয়ায় পুলিশে খবর যায়। পুলিশ এসে তাঁর টিনের চালের ঘরের তালা ভেঙে অমলবাবুর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় দেহ। অশোকনগর কল্যাণগড় পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরূপ দাসও পৌঁছেছিলেন ঘটনাস্থলে।
নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসার ছিল অমলবাবুর। শেষ কয়েক বছর একটা কাজ পাওয়ার আশায় কম হা-পিত্যেশ করেননি। তবে মহালয়ার ‘অসুর’ হিসেবে অমল চৌধুরী ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর চোখের চাউনি আর পেশীবহুল চেহারা বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠের সঙ্গে এক অদ্ভুত টানটান পরিবেশ তৈরি করত। পর্দায় দেবীর হাতে পরাজিত হলেও, অভিনয়ের জোরে তিনি অগণিত মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
মহলয়ায় যমরাজ, সেনাপতি-সহ অন্য চরিত্রেও কাজ করেছেন। বেশ কয়েকটি ছবিতেও কাজ করেছিলেন। একসময় স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু মহালয়ার প্রতি টান থেকেই লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের জগতকে ভালোবেসে ফেলেন। শুধু অভিনয় নয়, আঁকতে ভালোবাসতেন। হাজার হাজার বাচ্চাকে আঁকা শিখিয়েছেন। একটি অ্যাক্সিডেন্টের ফলে মাস কয়েক আগে পায়ে চিড় ধরেছিল। গত দুর্গাপুজোর আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে কাতর আবেদন করেছিলেন, ‘দিদি যদি একটু সাহায্য করেন।’ চিকিৎসার জন্য় দরকার ছিল সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। জোগাড় হয়নি টাকা। তার আগেই না-ফেরার দেশে চলে গেলেন অমল চৌধুরী। লাইমলাইট থেকে সরে গেলে, হয়ত এইভাবেই শিল্পীদের ভুলে যাই আমরা!



