দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৫ জানুয়ারি : শিলচর সুভাষ নগর মণ্ডপ প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে তৃতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক হিন্দু সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বিনয়ের সঙ্গে সমাজের সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশাত্মবোধ, হিন্দুত্ববোধ ও সমরসতামূলক রাষ্ট্রীয় চরিত্র গঠন এবং সর্বপ্রকার ভেদাভেদ মুক্ত শক্তিশালী ভারতের পুনর্নিমাণকে লক্ষ্য রেখে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে ভারত মাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। রবিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিলচর ভোলাগিরি আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী ভুবনেশ্বরানন্দ গিরি মহারাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুভাষনগর হিন্দু সম্মেলন সমিতির সভাপতি শক্তিপদ ভট্টাচার্য, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মধ্যকাচার জেলার কুটুম্ব প্রবোধন প্রমুখ সুজিতকুমার নাথ, রাষ্ট্রীয় সেবিকা সমিতির মধ্যকাচার জেলার বৌদ্ধিক শিক্ষণ প্রমুখ কেয়াঞ্জলি দেব, প্রাক্তন পৌর কমিশনার রীনা পাল, বিশিষ্ট সমাজসেবী মিহির রঞ্জন পুরকায়স্থ প্রমুখ।বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা বর্তমান সময়ে হিন্দু সমাজের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তারা অভিযোগ করেন, সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে এবং পাশের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের উপর ধারাবাহিক আক্রমণের ঘটনা ঘটে চলেছে।
হিন্দুদের পবিত্র মঠ, মন্দির ও সংস্কৃতির উপর আক্রমণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারা বলেন, এই পরিস্থিতিতে হিন্দু সমাজের আর নিরব থাকার সময় নেই, বরং একত্রিত হয়ে এসব আক্রমণের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় এসেছে।মুখ্য বক্তা সুজিত কুমার নাথ তাঁর বক্তব্যে সনাতন ধর্মের মূল দর্শন তুলে ধরে বলেন, সনাতন ধর্ম কেবল অন্ধবিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি, বরং এখানে বিশ্বাস ও যুক্তির মধ্যে এক সুসমন্বিত ভারসাম্য রক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্তমান সময়ে হিন্দুত্বের প্রকৃত অর্থ, মূল্যবোধ ও তাৎপর্য বোঝা এবং সেই অনুযায়ী জীবনযাপন করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী, অভ্রজিত চক্রবর্তী (ঝলক), কাজল রায়, বাসুদেব সাহা সহ আরো অনেকে। পুরো অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শিলচর নগর শারীরিক শিক্ষণ প্রমুখ সাগর দাস।
সম্মেলনের মাধ্যমে উপস্থিত বক্তা ও অতিথিরা হিন্দু সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, সামাজিক সমরসতা, সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় এবং জাতীয় চেতনা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।



