বরাক তরঙ্গ, ৮ এপ্রিল : ঊনকোটি জেলার সোনাইমুড়ি–তেলিয়া সংযোগ সড়কে মনু নদীর উপর নির্মীয়মান সেতুর একাংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাঝনদীতেই সেতুর বড় অংশ ধসে পড়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে পৌঁছেছে। সূত্রের খবর, সোনাইমুড়ি, তেলিয়া থেকে জগন্নাথপুর পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে মনু নদীর উপর প্রায় ১৪০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতু নির্মাণের কাজ চলছিল। ২০১৭ সালে বামফ্রন্ট আমলে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে বিজেপি সরকারের সময়ে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়।
পূর্ত দফতর জানিয়েছে, ৩৫ মিটার স্প্যানের সুপারস্ট্রাকচার ঢালাইয়ের সময় আচমকাই সেতুর একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। দফতরের আধিকারিক রতিরঞ্জন দেবনাথের দাবি, আগাম বৃষ্টির জেরে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় মাটির ভারবহন ক্ষমতা কমে যায়। ফলে অস্থায়ী স্টেজিং কাঠামো চাপ সহ্য করতে না পেরে ধসে পড়ে। তবে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে দফতর। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থাকে নিজেদের খরচে সেতু পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ—নির্মাণকাজে গুণগত মান বজায় রাখা হয়নি বলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসী রাজেশ মালাকার মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। তিনি সেতু নির্মাণে গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, “কমিশন ভিত্তিক কাজের ফলেই এই ধস নেমেছে।” দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
এদিকে, সিপিআইএম-ও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দলের স্থানীয় নেতা সুব্রত দাসের অভিযোগ, ঠিকাদারি কাজে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের কারণেই এ ধরনের বিপর্যয় ঘটছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে পূর্ত দফতরের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে বাম নেতৃত্ব।
এই ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তবুও স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।



