বরাক তরঙ্গ, ২৬ ফেব্রুয়ারি : রাজ্যের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ‘মুখ্যমন্ত্রীর নিযুত বাবু আঁচনি’ এবং ‘জীবন প্রেরণা আঁচনি’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেন। গুয়াহাটির জ্যোতি-বিষ্ণু আন্তর্জাতিক কলা মন্দির-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পগুলির উদ্বোধন করা হয়।
‘মুখ্যমন্ত্রীর নিযুত বাবু আঁচনি’র অধীনে স্নাতক স্তরের শিক্ষার্থীরা বছরে ১০ মাসের জন্য প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। একইভাবে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা বছরে ১০ মাসের জন্য প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে পাবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্নাতকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরাও এই প্রকল্পের সুবিধা লাভ করতে পারবে।
এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী ‘জীবন প্রেরণা আঁচনি’ চালু করেন। ২০২৫ সালে স্নাতক উত্তীর্ণ ৪৮,৩১৯ জন শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে প্রদান করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও আর্থিক সহায়তা পাবেন। অসমের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২,১১২ জন গবেষককে ২৫,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। বিশেষভাবে সক্ষম ১৩ জন গবেষককে ৪০,০০০ টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানে ‘উদ্যোগ ৪.০’ আঁচনির অধীনে প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলির ভার্চুয়াল উদ্বোধনও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যের ৩৪টি ITI ও পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানে ৩৪টি নতুন প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার জন্য প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অসম সরকার টাটা গ্রুপ-এর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং শীঘ্রই টাটা নেলকোর সঙ্গে আরও একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। এর মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়ে যাওয়া হবে। পাশাপাশি বিমান নির্মাণকারী সংস্থা ড’র্চাল এভিয়েশন গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়-এ একটি প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন করবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।
ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এখন প্রযুক্তির নতুন যুগের সূচনা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর থেকে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব এবং ভবিষ্যতে সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রোবট ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য অসমকে এগিয়ে যেতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নবনির্মিত প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলোতে উন্নত যন্ত্রের সাহায্যে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং আগামী বছরে ৫০টি বিদ্যালয়ে নতুন প্রযুক্তি ও AI সম্পর্কিত শিক্ষা চালু করা হবে। তিনি বলেন, “ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অসম পিছিয়ে থাকবে না। প্রযুক্তির বিশ্বকে রাজ্যের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”



