৭ এপ্রিল : থানার মধ্যে পিটিয়ে মারা হয়েছিল বাবা এবং ছেলেকে। এই পিটিয়ে মারার ঘটনায় ৯ জন পুলিশকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত। যাঁদের অপরাধী সাব্যস্ত করে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে তাঁদের মধ্যে আছেন ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার এক আধিকারিকও। সোমবার ওই রায় দিয়েছে মাদুরাইয়ের আদালত। সোমবারের এই রায়কে বিরল বলেও মনে করছেন আইনজীবীরা। এই রায় ঘোষণার সময়ে আদালত বিষয়টিকে ‘চরম নির্মমতা’ এবং ‘ক্ষমতার অপব্যাবহার’ বলে উল্লেখ করেছে। সেই সঙ্গে পুরো ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বিরল অপরাধ’ বলে চিহ্নিত করেছে আদালত।
২০২০ সালে পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যু হয় পি জয়রাজ নামে এক ব্যবসায়ী এবং তাঁর ছেলে জে বেনিস্ক-র। তামিলনাড়ুর থুথুকুডি জেলার সাত্তানকুলাম থানায় তাঁদের সারা রাত নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ফলে হওয়া গুরুতর আঘাত উপেক্ষা করে এক জন স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠান। কোভিলপট্টি সাব জেলে পাঠানো হয় তাঁদের। তবে, পরবর্তী দু’দিন ধরে তাঁরা দু’জনেই শ্বাসকষ্টের কথা জানান। ২০২০ সালের ২২ ও ২৩শে জুন হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁদের
ওই দু’জনকে নির্যাতন করার পরে ক্ষমতা অপব্যবহার করে প্রমাণ লোপাট করার অভিযোগ করেছিলেন জয়রাজের স্ত্রী সেলভারানি। এই নিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চের দ্বারস্থ হন তিনি। ঘটনায় ১০ জন পুলিশকর্মীকে গ্রেফতার করাও হয়। তাঁদের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হয়েছে।
ওই মামলাতেই ৯ জন পুলিশকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন মাদুরাই আদালতের প্রথম জেলা ও দায়রা বিচারক জি মুথুকুমারন। মাদুরাই জেলা আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে মৃতদের পরিবার।
জানা গিয়েছে, লকডাউন চলার সময়ে নির্ধারিত সময়ের বাইরে মোবাইল দোকান খুলে রাখার অভিযোগ উঠেছিল তাঁদের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যদিও পরে পুলিশের ওই দাবি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।
ওই ঘটনার তদন্ত করে CBI। মামলায় সিবিআই যে যুক্তি দিয়েছে তাতে সহমত পোষণ করেছে আদালত। বিচারক জানিয়েছেন, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন পূর্বপরিকল্পিত ছিল। এই কারণে রাতভর অত্যাচার চালানো হয়েছিল। অপরাধীদের এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাপ্য বলে জানিয়েছেন বিচারক।
এই মামলায় প্রায় ১০০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ছ’বছরের শুনানির পরে এক সঙ্গে ন’জন পুলিশকর্মীর ফাঁসির সাজা ঘোষণা হলো। যা দেশের ইতিহাসে কার্যত বিরল।



